সাহেদের প্রতারণা থেকে বাদ যায়নি শাশুড়িও!
বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সাহেদের প্রতারণা থেকে বাদ যায়নি শাশুড়িও!

রিজেন্ট হাসপাতাল কাণ্ডে মানুষের মুখে মুখে এখন সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদ ওরফে শহীদ। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বাদ যায়নি শাশুড়িও। শাশুড়ির ব্যাংক হিসাব থেকেও প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সাহেদ। এদিকে প্রতারণার জাল বিস্তার করে ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য গোপন করেই সিলেটের মেয়ে সাদিয়া আরাবি রিম্মির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাহেদ। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করেন তিনি। রিম্মির মা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। কয়েক বছর আগেই তিনি মারা যান। রিম্মিকে বিয়ে করার পর শাশুড়ির বিশ্বস্ততা অর্জন করেন সাহেদ। একপর্যায়ে শাশুড়ির ব্যাংক হিসাব থেকেও প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় শাহেদের শ্বশুরবাড়ি। সূত্রমতে শাহেদের শাশুড়ি ঢাকার বনানীতে থাকতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শাহেদ রিম্মিকে বিয়ে করার পর শাশুড়ির কাজকর্মে সহযোগিতা করতেন। দলীয় প্রভাব ও নিজের বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে সহজেই শাশুড়ির আস্থা অর্জন করেন। একপর্যায়ে শাশুড়ির ব্যাংক হিসাবে থাকা কোটি টাকার প্রতি লোভ জন্মে তার। নিজের ব্যবসার প্রয়োজনের কথা বলে এক সপ্তাহের জন্য টাকা ধার নেন শাহেদ। তারপর আর ফেরত দেননি ওই টাকা। এ নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।

এদিকে হাসপাতাল করার নামে একাধিক ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দেননি। চেক জালিয়াতি করে এসব ঋণ নিয়েছেন তিনি। ব্যাংকের কর্মকর্তারা ঋণের টাকা ফেরত চাইলে ক্ষমতার প্রভাব দেখাতেন। অর্থঋণ আদালতে সাহেদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি, চেক ডিসঅনারের কয়েকটি মামলা রয়েছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। বেসরকারি এনআরবি ও পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা জাল চেক দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন সাহেদ। দুটি ব্যাংকের পক্ষ থেকেই সাহেদের নামে মামলা করা হয়েছে। শুধু ঋণ নিয়ে নয় ক্রেডিট কার্ড থেকে ঋণ নিয়ে তাও পরিশোধ করেননি সাহেদ।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ