বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বেতন কমার আতঙ্ক
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বেতন কমার আতঙ্ক

করোনার ধাক্কায় নুয়ে পড়েছে দেশের ব্যংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতি। ফলে তারল্য বাড়াতে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যংক চালু করেছে একাধিক পুন:অর্থায়ন স্কিম। এর মধ্যেই ব্যয় সংকুলন করতে না পেরে কর্মীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংক। তাই বেতন আতঙ্কে রয়েছেন বেসরকারি নতুন পুরোনো সব প্রজন্মের ব্যাংকাররা।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কর্মীদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়ান ব্যাংক। এর আগে এক্সিম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং এবি ব্যাংকও বেতন কমানোর ঘোষণা দেয়।

বৃহস্পতিবার ওয়ান ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, মূল বেতনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ এবং মোট বেতনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানো হবে। তবে ৫০ হাজার টাকার নীচে কারো বেতন নামবে না। ১ জুলাই থেকেই এটা কার্যকর হবে। ব্যাংকের অ্যাসিটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে ঊর্ধ্বতনদের মূল বেতন ১০ শতাংশ কমে যাবে। আর প্রিন্সিপাল অফিসার থেকে নীচের গ্রেডের অফিসারদের মূল বেতন ৫ শতাংশ কমবে।

এর আগে গত জুনে সিটি ব্যাংকতাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৬ শতাংশ বেতন-ভাতা কমায়। ১ জুন থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এক্সিম ব্যাংক বেতন কমিয়েছে ১৫ শতাংশ। কার্যকর হয়েছে ১ জুন থেকে। এই দুটি ব্যাংকে বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবি ব্যাংক মে ও জুন মাসের বেতন ৫ শতাংশ কমিয়েছে। তারা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত না দিয়ে মাস ধরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গত মাসে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।

বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) করোনা মহামারিতে গত জুন মাসে ব্যাংকারদের বেতন কমানোর পরামর্শ দেয়। তবে বেশ কিছু ব্যাংক বেতন না কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ইউসিবি, এসবিএসি, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। কিন্তু বাকি বেসরকারি ব্যাংকগুলো কী করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বেতন কমানোর ফলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকগুলো তার কর্মকর্তাদের বেতনেরই যদি সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে গ্রাহকরা তাদের আমানতের সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হবে কিভাবে? এর ফলে বেসরকারি ব্যাংকের ওপর আস্থা কমে যাবে সাধারণ গ্রাহকের।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, করোনা ও ঋণ বিতরণে সুদহার (৯ শতাংশ) বেধে দেওয়ার ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যাংক। নতুন কোনো আমানত আসছে না। কমিশন ব্যবসায় নেমেছে ধ্বস। সব মিলিয়ে পরিচালন মুনাফা কমেছে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের। অতিরিক্ত ব্যায় কমাতে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে বেতন না কমিয়েও অতিরিক্ত খরচ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে অনেকগুলো ব্যাংক। বেসরকারি একাধিক ব্যাংক কার্যালয় ও শাখার ভাড়া বাবদ খরচ কমিয়ে আনছে। আবার কেউ কেউ পদোন্নতি, প্রণোদনা বোনাস ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ করে খরচ কমানোর পথ বেছে নিয়েছে। কেউ গাড়ির খরচ, পরিসেবা বিল, প্রশিক্ষণ খরচ, বিভিন্ন ধরনের সভায় অংশগ্রহণের ভাতা কমিয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক এখনই বেতন কমিয়ে কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে চাইছে না।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ