করোনায় সম্পদের ঘাটতিতে পড়েছে এনজিওগুলো
সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় সম্পদের ঘাটতিতে পড়েছে এনজিওগুলো

করোনা পরিস্থিতিতে সম্পদের ঘাটতিতে পড়েছে দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও)। এসব সংস্থা আর্থিক সংকটসহ নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের কাজে সমন্বয়ের ঘাটতিও আছে। এমন কি সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতিও নেই। এক ভার্চুয়াল সংলাপে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদের দুর্দশার কথা জানিয়েছেন।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটর্ফম, বাংলাদেশ-এর আয়োজনে “স্থানীয় র্পযায়ে চলমান পরিস্থিতির অভিজ্ঞতাঃ র্অজন ও চ্যালেঞ্জ” র্শীষক একটি র্ভাচুয়াল সংলাপ থেকে এসকল বক্তব্য উঠে আসে।

সংলাপের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, চলমান অতিমারিতে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, র্কমসংস্থানসহ র্সাবিক র্অথনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৃণমূল র্পযায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ত্রাণ ও নগদ সহয়তা, র্কমসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি বিভিন্ন র্কাযক্রমের মাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক সমাজের সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রেখে চলেছে। অতিমারি মোকাবেলা সংক্রান্ত র্কাযক্রম ছাড়াও স্থানীয় সংস্থাসমূহ তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক র্কমকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

তবে, র্বতমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে র্অথনৈতিক র্কাযক্রমে স্থবিরতা নেমে আসায় স্থানীয় র্পযায়ের নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ তাদের র্কাযক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে র্আথিক সংকটসহ অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সীমিত আকারে পরিচালনার ফলে সকল কাজের অগ্রগতি র্পুণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটর্ফম, বাংলাদেশ র্কতৃক পরিচালিত এক মতামত জরিপ থেকে দেখা যায়, দেশের স্থানীয় র্পযায়ে কাজ করছে এমন প্রায় ৯০% শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে সম্পদের অপ্রতুলতা রয়েছে। প্রায় ৭৭% স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে র্কাযক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। মাঠ র্পযায়ে কাজ করছে এমন ৬৮% বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মাঠর্কমীদের জন্য র্পযাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রীর যেমন, পিপিই, মাস্ক ইত্যাদির অভাব রয়েছে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান নানাবিধ ভূমিকা রাখলেও সরকারি নীতি র্নিধারনী র্পযায়ে র্পযাপ্ত স্বীকৃতির অভাব রয়েছে। গণমাধ্যমেও তাদের অবদানের প্রচারণা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অতিমারির বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলায় সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রচারে র্ধমীয় নেতাদের যুক্ত করা প্রয়োজন। চলমান  অতিমারির নানামুখী চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে জাতীয় নীতি কাঠামো প্রণয়ন করে সেখানে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে।

এসডিজি প্ল্যাটর্ফমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টার্চায বলেন, অতিমারীর সময়কালে স্থানীয় র্পযায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সরকারি নীতি-কৌশল ও র্কমপন্থার সাথে যুক্ত করা হয়নি। এই প্রেক্ষিতে জাতীয় র্পযায়ে একটি নীতি-কৌশল গ্রহণ করে স্থানীয় র্পযায়ে তা দ্রুত ক্রীয়াশীল করা দরকার।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে সচেতন ও র্কাযকর ভাবে যুক্ত করতে হবে। তৃণমূল র্পযায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসডিজি বাস্তবায়ন বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নতিকল্পে গুরুত্বর্পূণ ভুমিকা পালন করছে। তাই এদের এই র্দূযোগকালীণ সময়ে টিকে থাকার জন্য র্আথিক সহায়তা ও নীতি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষ থেকে খুবই জরুরী।

তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকা নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত রাখায় যুক্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এই সরকারি সর্মথনের আওতায় আনতে হবে। চলমান অতিমারীর সময়ে স্থানীয় র্পযায়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো ব্যপক র্কমকান্ড পরিচালনা করেছে ও করবে। সরকারি র্কমসূচী বাস্তবায়নেও তারা গুরুত্বর্পূণ ভুমিকা পালন করছে। তৃণমূল র্পযায়ে তাদের এই অবস্থান জাতীয়ভাবে এখন র্পযন্ত খুব কমই স্বীকৃতি লাভ করেছে। মিডিয়াতেও এদের কথা যথেষ্টভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয় না। এই র্দূযোগকালীণ সময়ে তথ্য প্রবাহের এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নিজেদের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। তাদের মধ্যে কাজের সমন্বয় করা উচিত।

দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদারের মতে, সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাজের মধ্যে যেমন সমন্বয় থাকতে হবে, তেমনি এনজিওগুলোর নিজেদের মধ্যেও সমন্বয় থাকতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর সম্পদের অভাব আছে।

সংলাপে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদেও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

বরিশালের এনজিও আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা জানান, করোনাকালে এনজিওগুলোর নারী কর্মীরা কোনে সহযোগিতা পাননি। অনেক সংস্থা সম্পদের অভাবে কর্মী ছাটাই করেছে।

খুলনাখিত্তিক এনজিও রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ বলেন, করোনার কারণে এনজিওগুলোর কর্মকান্ড স্থবির হয়ে আছে। অনেক কর্মী কর্মহীন হয়ে বসে আছেন। শহরের মতো ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না। অংশীজনদের অনেকের ডিজিটাল ডিভাইস নেই। ইন্টারনেট সমস্যাও প্রকট।

কুস্টিয়ার নারী মুক্তি ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগম বলেন, করোনাকালে তার নিজের কর্ম এলাকায় (২০ টি ইউনিয়ন) বাল্যাবিবাহ বেড়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার নেই বললেই চলে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করা মানুষের মধ্যে ৮৫ শতাংশের স্মার্টফোন নেই। অনেকের জিবি কেনার সামর্থ্য নেই।

দারিদ্র্যপ্রবন কুড়িগ্রামের এনজিও সলিডারিটির প্রধান হারুণ উর রশিদ বলেন, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি ওই এলাকার চরাঞ্চলের মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিপূণ করে তুলেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থসূচক/এমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ