২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস
রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস

করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠে নতুন আলোর পথের সন্ধানে জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। এবারের বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আগামীকাল ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থ বছর।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের কার্যাদি নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল হতে অর্থ প্রদান ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব প্রদানের জন্য আনীত বিলটি (নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২০) পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এরপর সংসদে উপস্থিত সবাই টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

এর আগে বেলা ১১ টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করে মন্ত্রীরা। মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরমধ্যে আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দু’টি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা।

যেসব সংসদ সদস্য ছাটাঁই প্রস্তাব দিয়েছেন তারা হলেন- জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পীর ফজলুর রহমান, ফখরুল ইমাম, লিয়াকত হোসেন খোকা, মুজিবুর রহমান (চুন্নু) ও রওশন আরা মান্নান। বিএনপির হারুনুর রশীদ ও রুমিন ফারহানা।

৫৯টি দাবির মধ্যে সংসদ সচিবালয় এবং লেজিলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে কোনো ছাটাঁই প্রস্তাব নেই।

অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের একটি করে ছাটাই প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের চার থেকে ৯টি করে ছাঁটাই প্রস্তাব রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এবার করোনা সংকটের কারণে বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসের সবচাইতে কম সময়ে বাজেট পাস করা হলো। মাত্র দুই দিন বাজেটের ওপর কয়েক ঘণ্টা আলোচনা শেষে এই বাজেট পাস হয়। এর আগে সাধারণত ৪০ ঘণ্টার অধিক আলোচনা করে বাজেট পাস করা হলেও এবার করোনা মহামারির কারণে সীমিত আকারে সংসদ অধিবেশন চলে।

বিরতি দিয়ে দিয়ে অধিবেশন চলতে থাকায়। গত ১০ জুন অধিবেশন শুরু হলেও ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৭ কার্যদিবস সংসদ চলে। এরমধ্যে ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট পাস হয়। আর ২৯ জুন অর্থবিল-২০২০ পাস করা হয়। এরপর সংসদের বৈঠক আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সংসদ চলার পর ৮ম অধিবেশন তথা বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। কর ব্যতীত আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ড ছাড়াও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশের সমান। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৩৫ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বেশি। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা ও অন্যান্য খাতের সহায়তা ধরা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় দুইলাখ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ঘাটতির চেয়ে ৩৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোট ব্যয়ের দুই তৃতীয়াংশই ধরা হয়েছে অনুন্নয়ন ব্যয় বা সরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতায়। যার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় খরচ হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিশোধে ব্যয় হবে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণের সুদে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধেও ব্যয় বাড়বে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যয় করা হবে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এডিপি বর্হিভূত প্রকল্পের উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭২২ কোটি ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে যাবে ২ হাজার ৬শ ৫৪ কোটি টাকা। অন্যান্য উন্নয়নখাতের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬ শ ২৪ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ