সন্ত্রাসী হামলায়ও চালু ছিল লেনদেন, বেড়েছে সূচকও
বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সন্ত্রাসী হামলায়ও চালু ছিল লেনদেন, বেড়েছে সূচকও

পাকিস্তানের করাচি শহরে অবস্থিত পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে সোমবার (২৯ জুন) সকালে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা আক্রমণে মারা গেছেন ৪ হামলাকারী সন্ত্রাসীও।

তবে এই আতঙ্কময় পরিবেশেও স্টক এক্সচেঞ্জটিতে এক মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ হয়নি। লেনদেন অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক নিয়মে চলেছে। হামলার প্রভাবে বাজারে মূল্যসূচকের বড় ধরনের উঠা-নামা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত উর্ধমুখী ধারাতেই শেষ হয়েছে লেনদেন। আর দিন শেষে বেড়েছে বাজারের সব মূল্যসূচক।

খবর সিএনএন, রয়টার্স, জিও টিভি, ডন ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

খবর অনুসারে, আজ সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে ওই সন্ত্রাসীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনটিতে হামলা চালায়। স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীর উপর প্রথমে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। এর পরপরই শুরু হয় রাইফেলের গুলি। বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়ে তারা ভবনটিতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী সক্রিয় থাকায় তারা সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণকারীদের প্রতিরোধে পাল্টা গুলি ছুঁতে থাকে। তাতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীরা নিহত হয়।

স্থানীয় পুলিশের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর ও চারজন নিরাপক্ষা রক্ষী নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে এই বর্বর হামলায়। আর এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন।

বিকালে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান সোলায়মান এস মেহেদি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার মধ্যেও স্টক এক্সচেঞ্জটিতে এক মিনিটের জন্যেও লেনদেন বন্ধ হয়নি।

তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা। আমরা এর নিন্দা জানাই। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করি।

স্টক এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সন্ত্রাসীরা ভবনটিতে প্রবেশ করতে পারলে বড় ধরনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারতো। কিন্তু পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সাহসিক প্রতিরোধের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তাছাড়া করোনার কারণে অনেক কর্মী বাসায় থেকে কাজ করছেন বলে এদিন স্টক এক্সচেঞ্জ কম্পাউন্ডে মানুষ ছিল কম। এটিও বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করেছে।

এমন বিপর্যকর পরিস্থিতির মধ্যেও উর্ধমুখী ধারায় বিরতিহীনভাবে লেনদেন শেষ হয়েছে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে। বেড়েছে এই বাজারের সবগুলো মূল্যসূচক।

পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক হিসেবে গণ্য করা হয় কেএসই-১০০ সূচককে। সোমবার সকালে সন্ত্রাসী হামলার পরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ে লেনদেন ও সূচকে। এক পর্যায়ে কেএসই-১০০ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২২০ পয়েন্ট কমে যায়। কিন্তু পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে সন্ত্রাসীদের নিহত হওয়া ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার খবরে বাজার ঠিক বিপরীত দিকে ঘুরে যায় বা ইউটার্ন নেয়। তখন সূচকটি তরতর করে বাড়তে থাকে। দিনশেষে সূচকটি ৩৪ হাজার ১১৭ পয়েন্টে উঠে আসে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৯৮ পয়েন্ট বেশি।

নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক কেএসই-৩০ সূচকের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এমন আতঙ্কের দিনেও বেড়েছে সূচকটি।

প্রধান মূল্যসূচক  দিন শেষে ২৪২ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৩৪ হাজার ১৮১ দশমিক ৮০ পয়েন্টে উন্নীত হয়।

স্টক এক্সচেঞ্জে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করে টুইট করেছে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতাকামী বালুচ লিবারেশন আর্মি।

আধা সামরিক বাহিনী সিন্ধু রেঞ্জার্সের মহাপরিচালক ওমর আহমেদ বুখারী বলেছেন, ২০১৮ সালে করাচিতে চীনের কনস্যুলেটে চালানো হামলার সাথে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে চালানো হামলার মিল রয়েছে। ওই হামলাটি চালিয়েছিল বালুচ লিবারেশন আর্মি। তাই এই হামলার (স্টক এক্সচেঞ্জ) সঙ্গে তাদের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।

Chat conversation end
Type a message…

এই বিভাগের আরো সংবাদ