অনিশ্চয়তায় মেস ছাড়ছে জবি শিক্ষার্থীরা
বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অনিশ্চয়তায় মেস ছাড়ছে জবি শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস থেকে ২ মিনিটের দূরত্বে একটি মেসবাড়িতে ভাড়া থাকতেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসান তমাল ও তার ৬ বন্ধু। করোনা সংকটে বন্ধ ক্যাম্পাস, তাই প্রায় ৩ মাস গ্রামের বাড়িতেই আছেন তারা। ক্যাম্পাস কবে খুলবে কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় মেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

শুধু তমাল আর তার বন্ধুরা নয়, জবির মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই ছাড়ছেন মেসবাড়ি। কবে নাগাদ ক্যাম্পাস খুলবে তার নিশ্চয়তা না থাকায়, মেস ছেড়ে দেওয়াকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছেন তারা। তবে মেসের ভাড়া পরিশোধ করা ও মালামাল নিয়ে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

মেস ছেড়ে দিয়েছেন অথবা দিবেন এমন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলমান  সংকট কবে নাগাদ শেষ হবে তার নিশ্চয়তা নেই। ফলে দীর্ঘসময় অতিরিক্ত মেসভাড়া বহন করার যুক্তি নেই। তাছাড়া পরবর্তী সময়ে সরকার থেকে যদি কোনো নির্দিষ্ট পার্সেন্ট মওকুফের ঘোষণাও আসে সেক্ষেত্রে বাকি টাকাটাতো দিতেই হবে।

সম্প্রতি মেস ছেড়েছেন পরিসংখ্যান ১৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ অন্তর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে জানিনা, সরকার থেকে কিছু মওকুফ হবে কি হবে না তারও নিশ্চয়তা নেই। এভাবে অনিশ্চিয়তার মধ্যে থাকার থেকে মেস ছেড়ে দেওয়া ভালো মনে করেছি।

মেসভাড়া পরিশোধ নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

সম্পূর্ণ অনাবাসিক হওয়ার ফলে জবির প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীকে থাকতে হয় মেসবাড়িতে। আর সিংহভাগ শিক্ষার্থীই অতিরিক্ত এই মেস ভাড়ার যোগান দেন টিউশনি, কোচিং-এ ক্লাস করিয়ে কিংবা পার্টটাইম জব করে। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সংসার খরচেও এই আয় থেকে অর্থের যোগান দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তাদের সকল আয়ের উৎসও বন্ধ। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও করোনা সংকটের কারণে ঢাকায় এসে মিলবে না টিউশন কিংবা পার্টটাইম জব। প্রশাসন থেকে সমাধান মিলবে এই আশায় কয়েকমাসের মেসভাড়াও দেননি অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়াও বাড়ি থেকে যারা মেস ভাড়া নেন তাদের অনেকেরই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষমের টাকায় যাদের পড়াশোনা ও মেসভাড়া চলতো, সেসব মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।সবমিলিয়ে এই সংকটময় মুহুর্তে মেসভাড়া এখন গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য।

বাড়িমালিক ও মেসম্যানেজারদের চাপে দিশেহারা শিক্ষার্থীরা

টিউশন ও পার্টটাইম জব হারালেও এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই মেস ও বাসা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বাড়ি মালিকরা। অনেক বাড়ি মালিকের বিরুদ্ধে মালা-মাল আটকে রাখা, পরবর্তীতে মেসে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বাড়িমালিক ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্বিগুণ করে তুলেছে মেস ম্যানেজাররা। বাড়ি মালিকের নাম করে ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন তারা। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অসহায়ত্বের ছাপ।

ছাত্রনেতাদের দায়সাড়া কর্মসূচী

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ছাত্রনেতা কিংবা সংগঠনগুলোর নেই কর্মতৎপরতা। ক্রিয়াশীল সংগঠন ও নেতারা দুইগ্রুপ হয় দুইরকম দাবি উত্থাপন করেছেন। একগ্রুপের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ৪ দফা ও অন্যগ্রুপে বিভিন্ন সংগঠনের ১৯ নেতার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে একদফা সম্পূরক বৃত্তির দাবি। তবে সংবাদ বিবৃতি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। তবে এখানে ব্যতিক্রম ছাত্রলীগ, সমাধান খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও কাজ করছেন তারা।

মাঠপর্যায়ে অনুপস্থিতির বিষয়ে ৪ দফার সংগঠক তিথি সরকার বলেন, আমরা সবাই তো বাড়ি চলে গেছি, লকডাউনে সবাই সরকারি নিয়ম মানছি, ফোনে কিছু সমস্যা সমাধান করেছি আরকি।

মাঠপর্যায়ে অনুপস্থিতির বিষয়ে একদফার ১৯ নেতার একজন ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার একজন অনিমেষ রায় বলেন, আমরা ১৯ নেতার সাথে সম্মিলিত কাজ করতেসি। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি নাহ। কোনো শিক্ষার্থী ঢাকা নাই, কিছু আছে কিন্তু বের হচ্ছে না। এ মুহূর্তে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সম্ভব না।

ছাত্রলীগের সেচ্ছাসেবকদের একজন কনিক স্বপ্নীল বলেন, প্রশাসনের সাথে আমাদের সিনিয়ররা সমস্যা সমাধানে কথা বলছেন। পাশাপাশি তাদের নির্দেশনায় মাঠে আমরা কাজ করছি।বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে কয়েক মাসের ভাড়া কমানো বা ৫০% ভাড়া কমানো হচ্ছে কিংবা বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল মওকুফ করা হচ্ছে। আর যারা বাসা ছেড়ে দিচ্ছে তাদের মালামাল কোনো নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আর জায়গা না থাকলে ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হচ্ছে মালামাল। ঢাকায় আসতে পারতেসে নাহ কিনতু বাসা ছেড়ে দিবে তাদের ঠিকানা নিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে তাদের মালামাল নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হচ্ছে।

স্পষ্ট বক্তব্য নেই প্রশাসনের

সমস্যার তিনমাস পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বাড়িভাড়া সমস্যা সমাধানে এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও মেলেনি সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য। দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা কমিটির কথা বলে দায় এড়োচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি যে রিপোর্ট দিবে বিশ্ববিদ্যালয় সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এবিষয়ে কমিটি গঠন হয়েছে, কমিটির সাথে কথা বলুন।

এক সদস্যবিশিষ্ট বাড়িভাড়া সমস্যা সমাধান  কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, এখনো সমস্যা বের করার চেষ্টা করতেসি, এরপর  একটা রিপোর্ট তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পাঠাবো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ