দাম কমেছে পেঁয়াজ-রসুনের, বাড়তি সবজির
বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

দাম কমেছে পেঁয়াজ-রসুনের, বাড়তি সবজির

গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আবার কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে আমদানি করা রসুনের দাম। এর সঙ্গে কিছুটা দাম কমেছে আলু ও ব্রয়লার মুরগির। তবে দেশি পেঁয়াজ ও রসুনের দাম এখনও বাড়তি। পাশাপাশি নতুন করে দাম বেড়েছে চিনির।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজখবর নিয়ে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে, যা গত শুক্রবার ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমেছে। অবশ্য গত সপ্তাহে আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম কমেছে আমদানি করা রসুনের। কয়েক দফা দাম কমে আমদানি করা রসুন এখন দেশি রসুনের থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মানভেদে আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা, যা আগে ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

আমদানি করা পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কমলেও দেশি পেঁয়াজ-রসুন বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত কয়েকদিনের মতো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি রসুনে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
ঈদের পর থেকে বাড়তে থাকা আলুর দাম গত তিনদিনে কিছুটা কমেছে। ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলুর দাম কমে ২৮ থেকে ৩০ টাকায় নেমেছে। দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে ব্রয়লার মুরগিও। ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

আমদানি করা পেঁয়াজ-রসুন, আলু ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমার তথ্য উঠে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাবেও। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আমদানি করা রসুনের দাম ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, আলুর দাম ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমেছে।

আমদানি করা পেঁয়াজ-রসুন, আলু, ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও চলতি সপ্তাহে চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারে চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। অবশ্য রোজার শুরুর দিকে চিনির কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছিল।

আলু, পেঁয়াজ-রসুনের দামের বিষয়ে শেওড়াপাড়ার ব্যবসায়ী রফিকুল বলেন, গত সপ্তাহে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বাড়ে। তবে গতকাল পাইকারিতে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে আমদানি করা রসুনের। আলুর দামও কিছুটা কমেছে। এ কারণে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি।

এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকা। যেখানে ঈদের পরেও বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে বাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। আর বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এদিকে বাজারে প্রতি কেজি বরবটিও বিক্রি হচ্ছে একই দামে।

বাজারে শুধু বেগুন, গাজর, টমেটো, বরবটি নয় চিচিঙ্গার কেজি বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে, ঝিঙা ও পটল ৫০-৬০, করলা ৫০-৭০, কচুর লতি ৪০-৬০, কচুর মুখী ৬০-৭০, কাকরোল ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৩০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি।

মনিপুরের বাসিন্দা মাসুম বলেন, কিছুদিন আগে নতুন ধান উঠেছে। এরপরও বেড়েছে চালের দাম। এর সঙ্গে ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন সবজির দামে তো রিতিমত আগুন লেগেছে। পরিস্থিতি এমন সবজিতে হাত দেয়ার অবস্থা নেই। করোনার কারণে এমনিতেই কষ্টে আছি, এখন সবজির যে দাম তাতে আমাদের অবস্থান খারাপ।

সবজির দামের বিষয়ে শেওড়াপাড়ার ব্যবসায়ী সালাম বলেন, গত এক সপ্তাহে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ায় রাজধানীতে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কেনাকাটাও। আবার বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি ক্ষেতে নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে সবজির দাম বেড়েছে। আমাদের ধারণা সামনে সবজির দাম আরও বাড়বে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ