সরকারকে ২০ ঘন্টার আল্টিমেটাম গণজাগরণ মঞ্চের

Gonojagoron

Gonojagoronপাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে সরকারকে ২০ ঘন্টার আল্টিমেটাম বেধে দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান হাইকমিশনের অভিমুখে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এ আল্টিমেটাম দেয় তারা।

এর আগে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে পাকিস্তান হাইকমিশনের অভিমুখে বিক্ষোভ করেছে গণজাগরণ মঞ্চের শত শত নেতাকর্মী। বুধবার বেলা ৩টার দিকে গুলশান-২ নম্বরে তাহের টাওয়ারের সামনে মিছিলটি আটকে দেওয়া হলে  তারা পুলিশের ব্যরিকেড ভেঙ্গে এগিয়ে যায়। পাকিস্তান বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে ওই এলাকা মুখরিত করে তোলেন মঞ্চের হাজারো কর্মী।

এ সময় বেশির ভাগের হাতে ছিলে ‘পাকিস্তান ডোন্ট ট্রাই টু সেভ ইওর ডগস’, ‘পাকিস্তান গো টু হেল’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা প্লাকার্ড।

যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতায় বাংলাদেশের বিষয়ে ‘নাক গলানোয়’ মঙ্গলবার দেশটির দূতাবাস অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে গণজাগরণ মঞ্চ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির জানান, গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ২০ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর আহত কর্মীদের চিকিৎসার আশ্বাসে ফিরে যায়।

১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে নতুন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে বাংলাদেশের। যুদ্ধকালীন গণহত্যায় পাকিস্তানি বহিনীর দোসর হিসেবে যারা ছিলেন, তাদের অন্যতম কাদের মোল্লা। বিচারের রায়ে মৃত্যুদণ্ড হলে গত বৃহস্পতিবার তা কার্যকর করার পর পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী সেদেশে রাজপথে বিক্ষোভ করে। এরপর সোমবার ‘ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের’ একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস হয়।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজা হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই আন্দোলনের মুখে আপিলের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড হয় ওই জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার। তার পরে বৃহস্পতিবার এই রায় কার্যকর করা হয়।