পোশাক পল্লী স্থাপনে তহবিল গঠনে অনিশ্চয়তা
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

পোশাক পল্লী স্থাপনে তহবিল গঠনে অনিশ্চয়তা

127 new rmg factory at sick list

ছবি: ফাইল ছবি

মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় পোশাক পল্লী  স্থাপনে তহবিল গঠনে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সরকারের পক্ষ থেকে তহবিল গঠনের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। আবার চীনা কোম্পানির অর্থায়ন দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। তাতে পল্লী স্থাপনের তহবিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পোশাক কারখানার মালিকেরা।

তারা বলছেন, কারখানা পরিদর্শনে বহু কারখানাকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হচ্ছে। এজন্য এসব কারখানা দ্রুত স্থানান্তর প্রয়োজন। তবে পোশাক পল্লী স্থাপনের তহবিল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সরকারের কাছে তহবিল গঠনের দাবি থাকলেও তার কোনো সাড়া মিলছে না। আবার ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দাবি করলেও এখনও কোনো ব্যাংক এ খাতে ঋণ দিতে রাজি হয়নি।

আর আগামি বাজেটে পল্লী স্থাপন নিয়ে মালিকদের পক্ষ থেকে বরাদ্দের দাবি করা হলেও তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। আবার কারখানা পরিদর্শনে হঠাৎ করে বন্ধ হওয়া শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে কাজ না পাওয়ায় আরও বিপাকে পড়েছেন বলে দাবি করছেন পোশাক মালিকরা।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে জানান, পল্লী স্থাপনের জন্য তহবিল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। পল্লী স্থাপন নিয়ে মালিকরা এগিয়ে আসলেও তহবিল নিয়ে সমস্যা কাটছে না। চীনা কোম্পানির ঋণ সহায়তা একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। এই সহায়তা পেতে বহু সময় লেগে যাবে। কারণ কার মাধ্যমে এই অর্থ বাংলাদেশে আসবে তার কোনো উপায় এখনও হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, পল্লী স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে তহবিল গঠনের দাবি করা হলেও সরকার এগিয়ে আসেনি। আবার ব্যাংক থেকে সহ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। তহবিল না হলে শিগগিরই কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় পোশাক পল্লী স্থাপণের জন্য চীনের দু’টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৪০০ কোটি টাকার সহজ শর্তের ঋণ সহায়তা দিবে। এ ঋণের সুদ হার হতে পারে তিন শতাংশ।  যা পল্লীর ভূমি উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ৫৯২ একর জমির ওপর এই পল্লী স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেখানে ২৫০টি কারখানা স্থাপিত হবে। সেই সঙ্গে পল্লী স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

চীনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেআরডি ও দাদা অ্যান্ড কোম্পানি এই পল্লী নির্মাণ ও অর্থায়ন করার কথা রয়েছে। এছাড়া জমিগুলোকে ১, ৩ ও ৫ বিঘার প্লটে ভাগ করা হয়েছে। ৩০ শতাংশ জমি অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যবহার হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পোশাক শিল্পে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাকে সামনে নিয়ে কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। আর ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোকে স্থানান্তরে প্রাধান্য দিয়ে বাউশিয়ায় পল্লী স্থাপনে সিদ্ধান্ত হয়। তবে তহবিল নিয়ে অনিশ্চয়তা চলমান প্রক্রিয়াকে আরও পিছিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ