আতঙ্কের বাজারে কী হবে আজ?
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

আতঙ্কের বাজারে কী হবে আজ?

investors not satisfied on dividend

বাজার নিয়ে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারী

পুঁজিবাজারে ফের অস্থিরতা বাড়ছে।রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় দর পতন বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স মনস্তাত্ত্বিক রেখা সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসায় অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বাজারের সম্ভাব্য গতি-প্রকৃতি ভেবে দিশেহারা তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, উদ্বেগের বিষয়টি যদি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, বাজারের ভবিষ্যত সর্ম্পকে সন্দিহান লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে চলমান দর পতন আরও তীব্র হতে পারে। চলতে পারে আরও কয়েক দিন। অন্যদিকে বিনিয়োগ অনুকূল বাজারে যদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সক্রিয় হয়, তাহলে ব্যাক্তি বিনিয়োগকারীরাও তাদের অনুসরণ করবে। এতে আতঙ্ক কেটে যাবে। ঘুরে দাঁড়াবে বাজার।

তাদের মতে, ডিএসইএক্স সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে বলেই ভয়ে দিশেহারা হওয়া উচিত নয়। বরং এতে বিনিয়োগের বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া গত মার্চ মাসেও এ সূচক সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসছিল। ছয়-সাত দিন এ পর্যায়ে ঘোরাফের করার পর ঠিকই তা আবার সাড়ে চারের উপরে উঠে আসে।

উল্লেখ, আগের সপ্তাহে দর পতনের পর রোববার ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শুরু হবে এমনটি আশা করেছিলেন অনেক বিনিয়োগকারী। কিন্তু তাদের ওই আশায় ছাই পড়েছে। ডিএসইএক্স কমেছে ৫৬ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশের শেয়ারের দাম বেড়েছে। আর কমেছে ৫৭ শতাংশের দাম। ব্যাংক ও সিমেন্টসহ কয়েকটি খাতে প্রায় শতভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। ডিএসইএক্স কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৮ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট।

প্রথম দিনের এমন দর পতনে অনেক বিনিয়োগকারী ভড়কে যায়। বাজার আগের সপ্তাহের মতো আচরণ করতে পারে এমন ভাবনা পেয়ে বসে তাদের। আগের সপ্তাহেও দর পতন দিয়ে শুরু হয়েছিল সাপ্তাহিক লেনদেন। আর শেষও হয়েছিল একই ধারা। এর মধ্যে ডিএসইক্সের সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসার বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করে।

আতঙ্কের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী মাস দেড়েক আগের চিত্রও ভুলে গেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিএসইএক্স বেশ কিছু দিন সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের উপরে অবস্থান করার পর ২৪ মার্চ তা ওই রেখার নিচে নেমে আসে। সূচক কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৬৬ পয়েন্ট। এরপর কয়েকদিন এটি এর আশপাশে অবস্থান করে ৪ এপ্রিল সাড়ে চার হাজার পয়েন্টের উপরে উঠে আসে। এর পর থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা উপরেই অবস্থান করে।

বিশ্লেষকরদের মতে, এবারও মার্চের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।দু’চার দিনের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে বাজার। এমনকি আজকেই ঘটতে পারে সেটা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময়ের জন্য বাজার এর চেয়ে খারাপ থাকবে এমন কোনো কারণ নেই।কারণ অর্থনীতিতে বড় কোনো চাপ নেই। রেকর্ড রিজার্ভ আছে।রপ্তানি আয়ের ধারাও ভালো। ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিমাত্রায় কড়াকড়ি থাকলেও তার কারণে বাজারের এতটা অবদমিত থাকার কথা নয়।বাজেটজনিত স্নায়ুর চাপ কাটিয়ে উঠতে পারলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ