দূর্ভাগা এনবিএল!

national-bank-limited
ন্যাশনাল ব্যাংক লোগো
national-bank-limited
ন্যাশনাল ব্যাংক লোগো

এক বছর পর মুনাফায় ফেরার সুসংবাদ দিয়েও বিনিয়োগকারীদের মন পায়নি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল)। আজ রোববার ব্যাংকটির ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিনে এর শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন দর হারানোতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় এনবিএলের জায়গা হয় দ্বিতীয় স্থানে। দূর্ভাগা বোধহয় একেই বলে!

দীর্ঘদিন ধরে এ শেয়ারে আটকে থাকা হাজার হাজার বিনিয়োগকারীরা এই বাজার আচরণে বড় হোঁচট খেয়েছেন। এতে তাদের বুকে জমে থাকা হতাশার পাথর আরও একটু ভারী হল আজ। আরও ধূসর হল পুঁজি ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আলোচিতপ্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ২৫ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর একই সময়ের শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ১০ পয়সা। কিন্তু মুনাফায় ফেরার এ খবর শেয়ারের দামে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। রোববার এ শেয়ারের দাম ১৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১১ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে।

রোববার এনবিএলের পথ ধরে আরও একটি ব্যাংক ১০ শতাংশের বেশি দর হারায়। ডিএসইতে সর্বোচ্চ দর পতন হয় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে। এর শেয়ারের দর নেমে আসে ১২ টাকা ৫০ পয়সায়। অথচ একদিন আগেও ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ছিল ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

দুটি ব্যাংকেরই অবশ্য আজ রেকর্ড তারিখ পরবর্তী মূল্য সমন্বয় ছিল। ব্যাংক দুটি ২০১৩ সালের জন্য ১০ শতাংশ হারে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত বৃহস্পতিবার ছিল এদের রেকর্ড তারিখ। আজ রোববার প্রথম লেনদেনের দিনে এদের মূল্য সমন্বয় হয়েছে। হিসেবে অনুসারে লভ্যাংশের সমান হারে অর্থাৎ ১০ শতাংশ মূল্য সমন্বয় হওয়ার কথা। কিন্তু দুটি ব্যাংকেরই মূল্য কমেছে তারচেয়ে বেশি হারে।

পুঁজিবাজারে রোববার বয়ে যাওয়া ঝড়ের ঝাপটা যেনো ব্যাংকিং খাতেই বেশি লাগে। এদিন ডিএসইতে ৯০ ভাগ ব্যাংক শেয়ারের দর হারায়। বাকী ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৭ শতাংশ দাম কমে সাউথইস্ট ব্যাংকের। এদিন ২ শতাংশের বেশি হারে দর হারায় আরও ১০ টি ব্যাংক।

ব্যাংক শেয়ারের এ দর পতন তাদের আর্থিক চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। কারণ এখন  পর্যন্ত যতগুলো ব্যাংক তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাদের বেশিরভাগেরই মুনাফা বেড়েছে। বাজারের এই আচরনের পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমত. ব্যাংকের আয় বাড়লেও তাতে আস্থা রাখতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। দ্বিতীয়ত: পড়তি বাজারে ব্যাংকের মতো বড় মূলধনী কোম্পানির  শেয়ার বিক্রির চাপও থাকে প্রবল। এছাড়া মাঝারী মূলধনের শেয়ারের দিকে হঠাৎ ঝোঁকের কারণেও অনেকে ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে সেসব কোম্পানির শেয়ার কিনছেন। সব মিলিয়েই পড়ছে ব্যাংকের শেয়ারের দাম। তবে এ পর্যায়কে বিনিয়োগের জন্য ভালো অবস্থা মনে করছেন তারা।