বাংলাদেশে সম্প্রচার; বিদেশি চ্যানেলকে গুনতে হবে ২০ কোটি টাকা

tv channel
tv channel
ফাইল ছবি: ভারতীয় টিভি চ্যানেল

দেশীয় সংস্কৃতি এবং শিল্প রক্ষায় বাংলাদেশে বিদেশি টেলিভিশন চ্যালেনের সম্প্রচারে কঠোর হচ্ছে সরকার। চ্যানেলগুলো থেকে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশে সম্প্রচারে চ্যানেল প্রতি এককালীন ২০ কোটি টাকা ফি নির্ধারণের চিন্তা করছে সরকার। আর এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশমালা পাঠাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ক কমিটি।

এনবিআর সূত্র জানায়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেনগুলোর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একটি কমিটি গঠন করেছিল এনবিআর। সেই সাথে বিজ্ঞাপন বাবদ কোনো কর ও মূসক প্রদান ছাড়া বিদেশি চ্যানেল প্রচারের ওপর একটি নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। এনিবিআরের করনীতির সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিমের নেতৃত্বে চার সদস্যের এ কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।

এনবিআরের সুপারিশে বলা হয়, বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচারের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত বিজ্ঞাপণের ওপরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অভিনেতার কাছ থেকে অগ্রিম আয়কর নিচ্ছে এনবিআর। কিন্তু বিদেশি চ্যানেল থেকে শুধুমাত্র ২৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া হলেও বিজ্ঞাপণ ও শিল্পীর আয়ের কোনো প্রকার ভ্যাট পাচ্ছে না সরকার। অন্যদিকে এসব চ্যানেল অবাধ হওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে দেশি চ্যানেলগুলো। যার ফলে দেশি সংস্কৃতি থেকে দুরে সরে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

এ বিষয়টি চিন্তা করে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের ওপর আরও অধিক পরিমাণ ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করেন এনবিআরের সমন্বয়ক কমিটি। কিন্তু এমনটি করা হলে কেবল অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ সে টাকা তুলে নেবেন এ আশঙ্কায় তা গ্রহণ করেননি অর্থমন্ত্রী। তিনি গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের দায় না চাপিয়ে ও দেশিয় চ্যানেলের প্রসার বৃদ্ধির লক্ষে বিদেশি চ্যানেলের ওপর ২০ কোটি টাকা করে সম্প্রচার ফি নির্ধারণ করার সুপারিশ করেন। একই সাথে স্যাটেলাইট টেলিভিশনের ওপর ধার্যকৃত ২৫ শতাংশ সম্পূরকশুল্ক বহাল রাখার পক্ষে মত দেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে প্রচারে ২০ কোটি টাকার এককালীন ফি নির্ধারণের জন্য সুপারিশমালা প্রস্তুত করে এনবিআর। যা দু’একদিনের মধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সুপারিশমালায় বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাদের সকল বিজ্ঞাপনের ভ্যাট নিশ্চিত করতে প্রতিটা অনুষ্ঠানের সময় (সেকেন্ড, মিনিট. ঘন্টা), টাকার পরিমাণ আগেই এনবিআরকে জানানোর নিদের্শ দেওয়া হয়।

এছাড়া কোনো বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন ভারতীয় কিংবা অন্যকোনো দেশের চ্যানেলে প্রচার করা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।

সমন্বয়ক কমিটিতে থাকা এনবিআরের এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানান, বিদেশি চ্যানেলের বাংলাদেশে সম্প্রচার নিয়ে অনেক আগ থেকেই কথা বলে আসছে দেশিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকরা। দেশিয় চ্যানেলের প্রতিষ্ঠা থেকে সম্প্রচার পর্যন্ত অনেক ধরনের কর দিতে হয় তাদের। অথচ কোন ধরনের কর ও ভ্যাট ছাড়াই বাংলাদেশে প্রচার হচ্ছে বিদেশি চ্যানেল। এছাড়া এসব চ্যানেলের কারণে হুমকির মুখে দেশিয় শিল্প ও সংস্কৃতি। আর তাই এটকোর নেতাদের দাবি ও অর্থমন্ত্রীর সুপারিশ ক্রমে এ প্রস্তাবনাটি তৈরি করেছে এনবিআর। যা দু’একদিনের মধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এর আগে এনবিআরের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে ভ্যাট প্রদানে সহজ ব্যবস্থার দাবি করেন বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো। তখন জানিয়েছেন, ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে চালু থাকায় তাদের বিজ্ঞাপনের বাজার ভারতে চলে যাচ্ছে। কর্পোরেটরা ভারতীয় চ্যানেলগুলোকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল চলে না। তখন তারা ভারতীয় চ্যানেল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব করেন।