চীনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ভারতে যে বিতর্কটা ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে

লাদাখে চীনের সঙ্গে রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর ভারতে যে বিতর্কটা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে, সেটা হলো, ঘটনার দিন ভারতীয় জওয়ান এবং অফিসাররা কি খালি হাতে গিয়েছিলেন, না কি তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল? যদি অস্ত্র থাকে তো তাঁরা আক্রান্ত হয়েও তা ব্যবহার করলেন না কেন? আর যদি তাঁরা নিরস্ত্র অবস্থায় যান, তা হলে কে তাঁদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং কেন দিয়েছিলেন?

যদিও এই বিতর্ক উসকে দিয়েছে দেশটির কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দুইটি টুইট। তিনি বলেছেন, নিরস্ত্র ভারতীয় সেনাকে হত্যা করে চীন জঘন্য অপরাধ করেছে। কিন্তু আমি জানতে চাই, এই বীরদের বিনা হাতিয়ারে কারা পাঠিয়েছিলেন, কেন পাঠিয়েছিলেন, দায়ী কে? এছাড়া চীনের হাতে ২০ জন সেনার মৃত্যু ও করোনার জন্য রাহুল তাঁর ৫০তম জন্মদিনও পালন করছেন না।

এর জবাব ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক টুইট বার্তায় বলেছেন, সীমান্তে সব সৈনিক সব সময় হাতে অস্ত্র রাখেন। বিশেষ করে তাঁরা যখন তাঁদের পোস্ট ছেড়ে যান। গালওয়ানেও ভারতীয় সেনাদের হাতে অস্ত্র ছিল। কিন্তু ১৯৬৬ ও ২০০৫ সালের চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিরোধের সময় কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে না।

এদিকে জয়শঙ্করকে জবাব দিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। প্রাক্তন সেনানী অমরিন্দর একটি টিভি বিতর্কে প্রবলভাবে আবেগতাড়িত ও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, জয়শঙ্করের দাবি ঠিক হলে বলতে হয়, জওয়ানরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন এবং নিজেদের কমান্ড অফিসারকে চীনা সেনারা মারছে দেখেও গুলি চালাননি! এটা হতে পারে না। এমনটা হলে কর্নেলের মৃত্যুর পর যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর কোর্ট মার্শাল হওয়া উচিত।

অমরিন্দর দশ বছর সেনায় ছিলেন। তিনি ভারত-চীন সীমান্তেও নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর সাফ কথা, জয়শঙ্কর যা বলছেন, আমি তা বিশ্বাস করি না। প্রথমত, তিনি ৪৮ ঘণ্টা পরে জানাচ্ছেন, সেনা সশস্ত্র ছিল। সেনাদের শেখানো হয়, আক্রান্ত হলে গুলি চালাতে হবে। ১৯৬৫-তে আমরা সেটাই করেছিলাম। চীন সীমান্তে আমরা যখন ডিউটি করেছি, তখন সব সময় বন্দুক নিয়ে করেছি। প্রাণঘাতী আক্রমণ হলে আমি সব সময় গুলি চালাবার নির্দেশ দেব।

এছাড়া ভারতের এক লেফটন্যান্ট জেনারেল এইচ এস পানাগ গণমাধ্যমকে বলেছেন, অস্ত্র ব্যবহার না করার চুক্তি সীমান্ত ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে খাটে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে খাটে না। যখন সেনাদের জীবন বিপন্ন তখন কমান্ডিং অফিসার অবশ্যই গুলি চালাবার নির্দেশ দেবেন।

ছবি: স্যাটেলাইট থেকে তোলা গালওয়ান উপত্যকার

এদিকে এনডিটিভির রিপোর্ট বলা হয়েছে, তাঁদের কাছে উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি রয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে গালওয়ান নদীর পাশে চীনা বুলডোজার রয়েছে। এবং তারা সম্ভবত নদীর স্রোতকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কারণ ভারতীয় এলাকায় গালওয়ান নদীর পাশে শুকনো এলাকায় সেনাবাহিনীর প্রচুর ট্রাক দাঁড় করানো ছিল। তবে ভারতীয় সেনা অফিসাররা জানিয়েছেন, গালওয়ান নদীর স্রোত আগের মতোই আছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, দুই পক্ষই সীমান্তে বিপুল সমাবেশ করেছে। চীনের দিকে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কেবল ট্রাক, বুলডোজার, সামরিক বাহন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত ১৫ জুন উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। ওইদিন লাদাখের সুউচ্চ পর্বতমালায় গালওয়ান নদীর পূর্ব পার ধরে টহলে বেরিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের একটি প্যাট্রোল পার্টি। তাদের সঙ্গেই চীনা সেনাদের তীব্র সংঘাত হয়। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। ওই সংঘাতের ২০ জন নিহত ও ৭৬ সেনা সদস্য আহত হওয়ার কথা প্রকাশ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

অর্থসূচক/এএইচআর