আবারও বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আবারও বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

সরকারের লকডাউন ঘোষণার মানে এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার উৎসব। লকডাউনের ঘোষণায় নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম। এদিকে নিত্যপণ্য কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ায় কাঁচাবাজারগুলোতে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি শিথিল হয়ে পড়েছে।

বোরো মৌসুমের ধান কাটা সবে শেষ হয়েছে। চালের এখন ভরা মৌসুম। কিন্তু বাজারে স্বস্তি নেই। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর পাইকারি বাজারে চালের দাম এক দফা বেড়েছিল। তার প্রভাব এখন পড়েছে খুচরা বাজারে। শুধু কি চাল? চড়া সবজি, ডিম ও মুরগির দামও। আরেকটু বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। তবে স্থিতিশীল রসুন ও আদার বাজার। কমতির দিকে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বস্তিকর নয়।

বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের আয় কম। ব্যবসায় মন্দা। বেসরকারি খাতে কারও কারও বেতন কাট ছাট হয়েছে। কেউ কেউ ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। বাকিরা আছেন দুশ্চিন্তায়। এসবের মধ্যেও বাজারে দাম কমার লক্ষণ নেই। বিশেষ করে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে।

করোনা সংক্রমণের মাত্রা বুঝে লাল, হলুদ আর সবুজ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে আগেই। রাজধানীর করোনার ‘লাল অঞ্চল’ ঘিরে ‘লকডাউন’ হচ্ছে-হবে চাউর বেশ কয়েক দিন ধরেই। আর ‘লকডাউন’ নিয়ে অতি মাতামাতিতে বাড়তি চাপ পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ক্রেতাদের বাড়তি কেনাকাটায় কিছুটা বেড়েছে পণ্যের দাম।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ ১০ ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ পর্যন্ত। এদিকে নিত্যপণ্য কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ায় কাঁচাবাজারগুলোতে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি শিথিল হয়ে পড়েছে। এমনকি লাল অঞ্চলের (রেড জোন) বাজারগুলোতেও সামাজিক দূরত্ব একদমই মানা হচ্ছে না।

জানা যায়, দেশে গত ৩১ মে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছিল। গত সপ্তাহ পর্যন্ত অনেকটাই কমেছিল সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। কিন্তু ফের লকডাউনের খবর চাউর হলে এই সপ্তাহের শুরু থেকে আবার বাজারে বেড়েছে কেনাকাটার চাপ। এতে নিত্যপণ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে।

বাজার ঘুরে ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে বাজারে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, মসলা, মুরগিসহ ১৬টি পণ্যের দামে পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০টি পণ্যের, বাকি ছয়টির কমেছে। এর বাইরে সবজির দামও চলতি সপ্তাহজুড়ে ছিল চড়া।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দিনে সব থেকে বেশি বেড়েছে বয়লার মুরগির দাম। চলতি সপ্তাহে একাধিক দফায় দাম বেড়ে বয়লার মুরগির কেজি আবার ১৭০ টাকায় উঠেছে, যা গত শুক্রবারও ছিল ১৪০ টাকার মধ্যে। কেনাকাটা বাড়ায় দাম বেড়েছে সব ধরনের চালের। মোটা চালের দাম বেড়ে কেজি ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা দুদিন আগে ছিল ৩৪ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে। ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি মানের চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। চিকন চালের দাম বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকা, যা আগে ছিল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে।

দুদিন আগে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলুর দাম বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। দেশি রসুনের দাম বেড়ে কেজি আবার ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কয়েক দফা দাম কমে গত সপ্তাহে দেশি রসুনের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা হয়েছিল। এখন তা আবার বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। রসুনের সঙ্গে দাম বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের। ৪০ টাকা থেকে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দেশি রসুনের পাশাপাশি দাম বেড়েছে আমদানি করা রসুনেরও। ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে ১০০ থেকে ১১৫ টাকা হয়েছে। গত দুই দিনের দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ছোলাও। রোজার পর দাম কমে ৬০ টাকায় নেমে আসা ছোলার কেজি বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।

এদিকে সবজি বাজারে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫৫ টাকা, ঝিঙা-চিচিঙা-ধন্দুল ৪০-৬০ টাকা, কাকরোল ৬০-৭০ টাকা, করল ও উস্তি ৬০-৭০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০-৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, পেঁপে ৪০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৪০-৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার বিষয়ে শেওড়াপাড়ার সবজি বিক্রেতা শফিকুল বলেন, বর্তমানে অনেক সবজির সিজন না হওয়ায় সেগুলোর বাড়তি দাম রয়েছে পাইকারি বাজারে। তাছাড়া সবজির দাম আমদানির ওপর নির্ভর করে। বাজারে মালামাল বেশি হলে দাম কমে, মালের সংকট হলে দাম বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারের দাম অনুপাতে আমরা খুচরা বাজারে মালামাল বিক্রি করি।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ