'ট্রেড ইউনিয়ন করতে দিচ্ছে না মালিকপক্ষ'
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

‘ট্রেড ইউনিয়ন করতে দিচ্ছে না মালিকপক্ষ’

গার্মেন্টস শ্রমিকবাংলাদেশের শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য দিতে সবসময় গড়িমসি করে। আর এ অভ্যাস যেন তারা অব্যাহত রাখতে পারে সে জন্য শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দিতে চায় না মালিকপক্ষ। এমনকি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও গার্মেন্টস মালিকদের মধ্যে নেই কোনো সদিচ্ছা।

সেই সাথে সরকারও এই ব্যাপারে উদাসীন বলে মনে করেন শ্রমিক নেতা ও কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার শিল্প মালিকদের এসব বে-আইনি কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

মহান মে দিবস উপলক্ষে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন: ঐতিহ্যের আলোকে ভবিষ্যতের পথচলা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের ভেতরেই কয়েকটি এনজিও আছে যারা সম্পূর্ণ বিদেশি টাকায় চলে। তারা এদেশে যেসব কাজ করছে তা অনেকটা ট্রেড ইউনিয়নের কাজের মতোই। আর যে সব দেশের টাকা দিয়ে ওদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাতে এদেশের শ্রমিকদের স্বার্থের পরিবর্তে তাদের স্বার্থই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার আন্দোলনকে শুধু বাধাই দেওয়া হচ্ছে না দমনও করা হচ্ছে। আর তাদের জায়গা নিচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন, এনজিও এবং অন্য সংস্থাগুলো। এদেশের শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন দমন করে শুধু শিল্পের শান্তিই বিনষ্ট করা হচ্ছে না দেশের সার্বভৌমত্বকেও বিপন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি ও বিলস এর ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আখতার এমপি, বিলস এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. মোখলেসুর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি এ এ মুকিত খান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো. আবু জাফর প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরে এদেশের শ্রমিক ও মেহনতী মানুষ বহু সংগ্রাম করেছে, জীবন দিয়েছে। পাশাপাশি শাসন পদ্ধতি ও সরকারেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিক নানা সংকটের আবর্তে রয়েছে। এই সংকটের আবর্ত থেকে মুক্তি পেতে হলে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা বাংলাদেশের শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপরে সকল বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, আইএলও সনদ এবং দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনকে রাষ্ট্র ও সমাজের উপযুক্ত স্থানে জায়গা করে দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

এমআরএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ