পৃথিবীর মধুরতম শব্দ 'মা'
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

পৃথিবীর মধুরতম শব্দ ‘মা’

বিশ্ব মা দিবস

বিশ্ব মা দিবস

আজ ‘বিশ্ব মা দিবস’। পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে পালিত হচ্ছে দিবসটি। মাতৃত্বের চিরায়ত ভালোবাসা এবং মমতাকে উদযাপন করতেই এই দিবস। ‘মা’ একটি অক্ষর। একটি শব্দ। কিন্তু এর ব্যাপ্তি ভুবনবিস্তৃত। ‘মা’ কথাটি ছোট্ট হলেও মা-ই বসুন্ধরা, মমতার আধার। এক কথায় ত্রিভুবনের সবচেয়ে মধুরতম অপার্থিব শব্দ ‘মা’। বিশ্বস্রষ্টার সেরা সৃষ্টি মায়ের মতো আপন কেউ নেই। কস্মিনকালেও কেউ হতে পারে না। মায়ের এই অতুলনীয় কথামালাই ‘মা’ কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন কবি কাজী কাদের নেওয়াজ। তিনি যথার্থই লিখেছেন—‘মা কথাটি ছোট্ট অতি/কিন্তু জেনো ভাই/ইহার চেয়ে নাম যে মধুর/ত্রিভুবনে নাই।’

বিশ্বকোষ মতে, মা হচ্ছেন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন– তিনিই অভিভাবকের ভূমিকা পালনে সক্ষম ও মা হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। প্রকৃতিগতভাবে একজন নারী বা মহিলাই সন্তানকে জন্ম দেওয়ার অধিকারী। গর্ভধারণের ন্যায় জটিল এবং মায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অবস্থানে থেকে এ সংজ্ঞাটি বিশ্বজনীন গৃহীত হয়েছে।

তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, ‘মা’ তার সহজাত মমত্ব দিয়ে আমৃত্যু সন্তানকে আগলে রাখেন অসামান্য দরদে। সন্তানের রোগে-শোকে মা-ও তাই আক্রান্ত হন। গীতিকার প্রণব রায়ের গানে আছে- ‘প্রদীপ হয়ে মোর শিয়রে/ কে জেগে রয় দুখের ঘরে/ সেই যে আমার মা/ বিশ্ব ভুবন মাঝে তাহার নেই কো তুলনা।’

বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় সবকিছুরই আলাদা আলাদা নাম আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক ভাষার সঙ্গে আরেক ভাষার কোনো মিল নেই। কিন্তু বিস্ময়কর সত্য হলো পৃথিবীর সব দেশের শিশুর প্রথম ভাষা ‘মা’।

এক কথায় ‘মা’ শব্দটি আসলে কোনো ভাষার নিজস্ব সম্পত্তি নয়। শব্দটি সার্বজনীন। যেমন—ফান্সে মা বলা হয় মেরি, জার্মানিতে মাটার, হিন্দিতে মাজি, উর্দুতে উমি, ইংরেজিতে মামি, মাম, মামা, মাম্মি, বাংলায় আম্মা, আম্মি, আম্মাজি, মাগো, মা। ভালোমতো খেয়াল করে দেখুন, মা শব্দটি কি খুব বেশি পার্থক্য সৃষ্টি করছে? মোটেই নয়। কেবল মানবসমাজেই নয় এই মিল খুঁজে পাওয়া যায় প্রাণিকূলের প্রায় সব প্রজাতির মধ্যেই।

তাইতো পৃথিবীর সবভাষার প্রায় সব লেখকই ‘মা’কে নিয়ে ছড়া-কবিতা, গীতিকবিতা, গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। তৈরি করেছেন হাজারো চলচ্চিত্র। এসব সাহিত্যকর্মে ফুটে উঠেছে মায়ের নানান রূপ। এখানে মা কখনো মমতাময়ী, কখনো খেলার সাথী, কখনো তার শিশুমনের আজব কল্পনায় সবচেয়ে আপন চরিত্র, কখনোবা একমাত্র অবলম্বন। লেখকদের লেখায় ‘মা’ শুধু রক্ত-মাংসের একজন অতুলনীয় নারী চরিত্রই নয়। ‘মা’ হলো দেশ, মা হচ্ছে ভাষা, মা অস্তিত্বের স্বরক।

আসলে ‘মা’ এমন একটি শব্দ যার মূল্য আজ পর্যন্ত কেউ পরিশোধ করতে পারেনি। ‘মা’ শব্দের ওজন এতো বেশি যে কেবল ব্যক্তি নয় এর ভার এই জমিন কিংবা আকাশে বহন করতে পারেনি। তাইতো তার পদতলেই আমাদের স্বর্গ। অনন্ত জীবনে আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্য। ‘মা’ তাই হেলাফেলার কিছু নয়। ‘মা’ তো ‘মা’-ই। কিন্তু তারপরও এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।

আমাদের অনেকেই ভুলে যান তার শেকড়-কে। এমন ব্যক্তিদের জন্য করুণা ঝড়ে পড়েছে জীবনমুখী গায়ক নচিকেতা। কষ্টে বিবর্ণ সুরে তিনি গেয়েছেন, ‘নিজের হাতে ভাত খেতে পারতো নাকো খোকা/ বলতাম আমি না থাকলে কি করবি রে বোকা?/ ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতো খোকা আমার কথা শুনে-/ খোকা বোধ হয় আর কাঁদে না, নেই বুঝি আর মনে।’

হ্যাঁ, এমন সন্তানদের ঘুম ভাঙিয়ে দিতে কালে কালে রচিত হয়েছে এমন অনেক পঙক্তিমালা। আর নাগরিক জীবন ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে ‘মা’-কে আরও নিবিড়ভাবে ভালোবাসতে কালে কালে পৃথিবীজুড়েই চলেছে নানা উদ্যোগ, নানা আয়োজন।

সেই আয়োজনের মধ্য দিয়েই কেবল মায়ের জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মা দিবস’। প্রত্যাশা, এই মা দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়েই ঠিকই ঘনীভূত এই সঙ্কটকালের অবসান হবে।

কেএফ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ