প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের বেশি হবে না: সিপিডি
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এবছর প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের বেশি হবে না: সিপিডি

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে মহামন্দার হুমকিতে বিশ্ব অর্থনীতি। বেশিরভাগ দেশই এ বছর প্রবৃদ্ধিতে বিশাল ধসের আশঙ্কা করছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও পড়বে এর প্রভাব। করোনার কারণে এ বছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের বেশি হবে না বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ রোববার (০৭ জুন) এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ অভিমত দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বিদায়ী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান এবং বাজেটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এ বিফ্রিংয়ের আয়োজন করা হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে মার্চের শেষের দিক থেকে অর্থনীতি একটা ভিন্ন গতি-প্রকৃতির দিকে ঢুকে গেছে উল্লেখ করে মূল প্রতিবেদনে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন হতে পারে আমরা সেটা দেখার চেষ্টা করেছি। সেক্ষেত্রে আমরা কতোগুলো বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েছি। বর্তমান যে পরিস্থিতি আছে তার কী ধরনের প্রভাব পড়েছে। আমরা দেখেছি পাঁচটি খাত সরাসরি বড় অসুবিধায় পড়েছে।

তিনি বলেন, জিডিপিতে ১৫টি খাত থাকে। নিঃসন্দেহ অনেক খাতই বড় ধরনের ক্ষতিতে পড়েছে। কিছু কিছু খাত যেমন কৃষি হয়তো ওইভাবে প্রভাবিত হয়নি। কৃষির উৎপাদন মোটামুটি ভালো হয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং ও কন্সট্রাকশন খাত প্রত্যক্ষভাবে বড় সমস্যায় পড়েছে এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা যদি ধরে নিই অর্থবছরের বাকি যে সময় আছে তাতে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে, তারপরও প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো সিনারিও যদি আমরা এই বছরের জন্য চিন্তা করি তাহলে আমাদের ধারণা এ বছরের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হবে না।

তৌফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, আমরা যদি ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি, তাহলে তা যথেষ্ট খারাপ না। বিশ্বের অনেক দেশ এই সময়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে চলে গছে। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও এই ধরনের আশঙ্কা করা হয়েছে।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়ে সিপিডির এই গবেষক বলেন, সাধারণত আমাদের নীতি, পরিবেশ পরিস্থিতি যদি বিবেচনা করি দেখি, আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে বেগবান করার জন্য বড় গুরুত্ব থাকে। এটাই প্রধান বলে অনেক সময় অনেক নীতি-নির্ধারকরা বলে থাকেন। কিন্তু বর্তমান সময় অত্যন্ত ভিন্ন ধরনের সময়। এই সময়ে আমরা প্রবৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর না দিয়ে, বরং আমাদের মানুষের জীবন বাঁচানো সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) প্রকাশিত আইএমএফের কান্ট্রি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব হবে মারাত্মক। এতে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রকোপ কমলে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধির চাকা আবার কিছুটা সচল হবে। এতে আগামী (২০২০-২১) অর্থবছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। আর করোনা না থাকলে আগামী অর্থবছর স্বাভাবিকভাবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করে আইএমএফ। যদিও ২০২১-২২ অর্থবছর আবার বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক চেহারায় ফিরবে বলেও সংস্থাটি মনে করছে। এতে সে অর্থবছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ