ভৈরবে চলছে করোনার তাণ্ডব
বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভৈরবে চলছে করোনার তাণ্ডব

বাণিজ্যনগরী ভৈরবে শুরু হয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) তাণ্ডব। সংক্রমণের হারের দিক দিয়ে এই উপজেলার এখন দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ছোট্ট এই জনপদে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন দেশের অনেক জেলার চেয়েও বেশি।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে এই উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪২ জন। অথচ এখনও তিন দিনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্টগুলো এলে এখানে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩শ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


তবে ভৈরবের অবস্থা কতটা্ নাজুক তা আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বুঝা যাবে না। বুঝতে হবে আক্রান্তের হার বিশ্লেষণ থেকে। এই তথ্যে যে কোনো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞও চমকে উঠতে পারেন।

আজ শনিবার (৬ জুন) এই উপজেলার যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে, তা কাঁপন ধরে যাওয়ার মতো। আজ এখানে ৩ জুনে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। আর ৭৩টি নমুনার মধ্যে ৪৬টির রিপোর্ট এসেছে পজেটিভ। এদের মধ্যে ৪ জন পুরনো রোগী। সে হিসেবে এই উপজেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ভৈরবের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ সূত্রে সংক্রমণের এই তথ্য জানা গেছে।

জাতীয়ভাবে নমুনা পরীক্ষার ২১ শতাংশ পজেটিভ, ভৈরবে তা ৫৮ শতাংশ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ জুনে পরীক্ষাকৃত নমুনার ৫৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ পজেটিভ। সেটি পুরনো রোগী বাদ দিয়ে। আর পুরনো ৪ জনকে বিবেচনায় নিলে এই হার দাঁড়ায় ৬৩ শতাংশ। অথচ জাতীয়ভাবে এই হার ২১ শতাংশের কম। অর্থাৎ ভৈরবে করোনা সংক্রমণের তীব্রতা জাতীয় হারের আড়াই গুণ।

এই রিপোর্ট অনুসারে করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩ তারিখে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন আরও ২ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৮ জন। মোট আক্রান্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২৮ শতাংশ।

গত ৩ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ভৈরব উপজেলায় করোনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভৈরব কোনো ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু পরীক্ষা জটের কারণে ফল পেতে লাগে ৪ থেকে ৫ দিন। এখনো এই উপজেলায় ১, ৪ ও ৫ জুনের সংগৃহীত নমুনার রিপোর্ট এখনো ভৈরবে পাওয়া যায়নি। গত ৩ জুনের কাছাকাছি হারেও বাকী তিন দিনের নমুনা পজেটিভ হলে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩শ ছাড়িয়ে যাবে।

ভৈরবের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে লিখেছেন, পরিস্থিতি অবনতির দিকে। তিনি সবাইকে ভিড় পরিহার করা, শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েকটি কারণে ভৈরবের এমন নাজুক অবস্থা হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের দিক থেকে খুবই সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে ভৈরবের উপর দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসা-যাওয়া করেন। বন্দরনগরী হওয়ায় এমনিতেও এখানে মানুষের আনাগোনা বেশি। অন্যদিকে ঈদ-উল-ফিতরের আগে দেশের বড় বড় মার্কেট বন্ধ রাখা হলেও ভৈরবের সব মার্কেটই ছিল খোলা। তার উপর ঈদে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় শহর থেকে ভৈরবে ফিরেছিল। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পরে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসেছে ভৈরববাজারে।

অন্যদিকে ভৈরবে কিছু মানুষের বেপরোয়া স্বভাব, অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরে বেড়ানো, মাস্ক পরিধান না করা ইত্যাদি কারণে করোনার বিস্তার আরও সহজ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে করোনার সংক্রমণের জন্য একটা উর্বর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যাতে সংক্রমণ এমন ঝড়ের গতিতে বাড়ছে।

পরিসংখ্যানও এই কারণগুলোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভৈরবে করোনার সংক্রমণের তীব্রতা বেড়েছে গত দুই সপ্তাহে। গত ৩ জুনে এখানে পরীক্ষাকৃত নমুনার ৫৮ শতাংশে (প্রায়) করোনা শনাক্ত হয়েছে, আগের দুই দিনের (৩০ মে ও ২ জুন) পরীক্ষার রিপোর্টে তা ছিল ৪৩ শতাংম। আর এখন পর্যন্ত হওয়া মোট পরীক্ষা বিবেচনায় তা মাত্র ২১ শতাংশ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ