বেসরকারি খাতের ঋণেও করোনার প্রভাব
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বেসরকারি খাতের ঋণেও করোনার প্রভাব

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগে থেকেই বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল নিম্নমুখী। প্রতি মাসে কমতে কমতে করোনার প্রভাবে এপ্রিল মাসে এর প্রবৃদ্ধি এসে দাঁড়ায় মাত্র ৮ দশমিক ৮২ শতাংশে। যা গত দশ বছরে বেসরকারি খাতে বিতরণকৃত ব্যাংক ঋণের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ

Sharebazaar-News & Analysis এ। এতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে এই প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে এসেছে। যা গত বছরের একই মাসের বেসরকারি খাতে বিতরণকৃত ঋণের চেয়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। কিন্তু আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে এই ঋণের প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির। সরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়লেও বেসরকারি খাতে বাড়েনি। কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় এখন সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বিনিয়োগ কমছে। তবে সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়িয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ওই মন্থর গতির কারণে গত বছরের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে, তাতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য আগের চেয়ে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ধরা হয়। কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির বর্তমান অঙ্ক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬ শতাংশ কম।

অন্যদিকে মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। জানুয়ারিতে অবশ্য তা বাড়িয়ে ৫৬ শতাংশ করা হয়। কিন্তু এপ্রিল শেষে সেটাও ছাড়িয়ে ৭৪ দশমিক ৫৫ শতাংশে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের মাস নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তার আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ। তার আগে জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ, মে মাসে ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ। এপ্রিলে ছিল ১২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, মার্চে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ছিল যথাক্রমে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায় এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে বাধ্য হয়েই সরকারকে ব্যাংক থেকে প্রচুর ঋণ নিতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ