করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনেই ফিরল ডব্লিউএইচও
মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনেই ফিরল ডব্লিউএইচও

করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষা আবার শুরু হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গতকাল বুধবার (০৩ জুন) ঘোষণা করেছে, করোনার সম্ভাব্য চিকিৎসার অনুসন্ধানে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আবার শুরু হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসিস বলেছেন, করোনা ভাইরাসের মৃত্যু নিয়ে যে তথ্য আমাদের কাছে এসেছে তার ভিত্তিতে আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন চালু করার কথা জানিয়েছে।

তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ কমিটি এই ওষুধটির পরীক্ষা বাতিলের কোনও কারণ খুঁজে পায়নি।

এর আগে ল্যানচেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় করোনা ভাইরাস রোগীদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে চিকিৎসায় মৃত্যৃঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। করোনার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করলে হৃদরোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এরপর গত ২৫ মে ওষুধটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয় ডব্লিউএইচও। ওই সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তথ্য পর্যালোচনার সময়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সাধারণত আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেকেই কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য ওষুধটি ব্যবহারের পরামর্শ ও সমর্থন দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সরকারিভাবে সরবরাহ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রোয়াসুস বলেন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ কতটা নিরাপদ ও কার্যকরী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সাময়িকভাবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হলো।

সেই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওষুধটি ব্যবহারের পরীক্ষাগুলোর ডাটা পর্যবেক্ষণে রাখবে বলে জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, এ ওষুধ কার্যকর নয়, বরং তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। কয়েকটি ইউরোপের দেশে কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে এ ওষুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কয়েক দশকের পুরোনো ওষুধটির পরীক্ষাগারের প্রাথমিক আশাব্যঞ্জক ফল ও প্রদাহবিরোধী অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এর ব্যবহার শুরু হয়।

ব্রিটিশ চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’ গত সপ্তাহে ৯৬ হাজার রোগীর একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে, যাতে হাইড্রোক্সিক্লোকুইন ও ক্লোরোকুইন ব্যবহারে রোগীদের মৃত্যু এবং হার্টের ছন্দ সমস্যার ঝুঁকি বেশি দেখানোর কথা বলা হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সার্জিস্ফিয়ার নামের যে প্রতিষ্ঠানের তথ্যেের ওপর ভিত্তি করে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে, সেখানকার কর্মীদের মধ্যে্ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখক এবং প্রাপ্তবয়স্ক কন্টেন্ট মডেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘ল্যানসেট’ ও ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’ সাময়িকীতে সার্জিস্ফিয়াই হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন গবেষণার ডেটাবেস সরবরাহ করেছিল।

গার্ডিয়ান তদন্ত করে দেখেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সার্জিস্ফিয়ারের প্রধান নির্বাহীর সহযোগিতায় রচিত কোভিড -১৯ এর একাধিক গবেষণার জন্য ডেটা সরবরাহকারীদের অনেকেই কল্পকাহিনী লেখক। তারা এ পর্যন্ত তথ্য বা গবেষণা পদ্ধতি (মেথডলজি) সম্পর্কে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী এক হাজারের বেশি হাসপাতাল থেকে বৈধভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও বৈজ্ঞানিক নিবন্ধগুলেোর ভিত্তিতে তারা এ গবেষণা করেছেন।

গত মঙ্গলবার অবশ্যি গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান শুরুর পর ‘ল্যানসেট’ তাদের প্রকাশিত গবেষণা সম্পর্কে ‘উদ্বেগ প্রকাশ’ করেছে।

গার্ডিয়ান বলছে, তাদের তদন্তে উঠে এসেছে, সার্জিস্ফিয়ারের কর্মীদের খুব কম বা আদৌ বৈজ্ঞানিক পটভূমি নেই। যদিও সার্জিস্পিয়ার বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুত বর্ধমান একটি হাসপাতালের ডেটাবেস চালানোর দাবি করে, এটির প্রায় কোনো অনলাইন উপস্থিতি নেই। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্বপন দেশাইয়ের নাম তিনটি মেডিকেল কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত।

সূত্র: রয়টার্স, গার্ডিয়ান, এনডিটিভি

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ