পাঁচ মাসে ৮ কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

পাঁচ মাসে ৮ কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে

Z_Catagory

ছবি: ফাইল ছবি

গত পাঁচ মাসে আরও আটটি কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে নাম লিখিয়েছে। এদের নিয়ে জেড ক্যাটাগরিতে কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ টি।

কোম্পানিগুলোর অনিয়ম আর লোকসানের দায়ে ভোগান্তি বাড়ে বিনিয়োগকারীদের। কোম্পানির যেকোন অনিয়মের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানির বিরুদ্ধে নানা রকম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। আর এতে কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিনিয়োগকারীদের।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) তালিকাভুক্ত ৮ কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, জেমিনি সী ফুড, আর এন স্পিনিং, বিডি ওয়েল্ডিং, ফারইস্ট ফিন্যান্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং বেক্সিমকো সিনথেটিকস।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরএন স্পিনিং ছাড়া বাকী কোম্পানিগুলো সমাপ্ত অর্থবছরে কোন লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে।

উল্লেখ্য, বস্ত্র খাতের আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার নিয়ে পরিচালকদের জালিয়াতির অভিযোগে কোর্টে মামলা চলছে। এ কারণে এজিএম করতে কোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই কোম্পানিটিকে ক্যাটাগরি চ্যুত করা হয়েছে।

তবে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির আয় বেড়েছে ৬৪ শতাংশ।গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৫ টাকা ২৪ পয়সা। আগের বছর (২০১২) কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৩ টাকা ১৯ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা বা ৬৪ শতাংশ।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত হয় ২০১০ সালে।

তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড ২০১৩ সালে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ না দেওয়ায় জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই শেয়ারটি সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১১ টাকা ৯০ পয়সায়। আর গত ৫২ সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১০ টাকা থেকে ২২ টাকায়।

একইভাবে আর্থিক খাতের ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড লভ্যাংশ না দেওয়ায় জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। তবে কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্তির প্রথম বছরেই ক্যাটাগরি চূত্য হয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমানে অভিহিত মূল্যের নিচে ৮ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

এই বছরেই বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানি প্রথম জেড ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। এর মধ্যে শাইনপুকুর সিরামিকসের বর্তমান বাজার দর ১১ টাকা। কোম্পানিটি কোন লভ্যাংশ ঘোষণা না করায়, গত ৩০ তারিখে শেয়ারটির দর ১৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় নেমে যায়।

একইভাবে বেক্সিমকো সিনথেটিক্সের শেয়ার গত মাসের ২৯ তারিখেও ১৪ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। কিন্তু কোন লভ্যাংশ ঘোষণা না করায়, শেয়ারটি ৯ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

একইভাবে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার ৯ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে।

দীপু সরোয়ার নামে এক বিনিয়োগকারী অর্থসূচককে বলেন, কোম্পানিগুলোর অনিয়মের দায় বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি বাড়ে। কারণ জেড ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন করতে যেয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। এসব শেয়ার লেনদেন করে টাকা ফেরত পেতে ৮ থেকে ৯ দিন সময় লেগে যায়। আবার শেয়ারগুলোর বাজার দর অনেক কমে যায়। এতে লোকসান গুনতে হয় বিনিয়োগকারীদের।

বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিগুলোকে শাস্তি স্বরপ জেড ক্যাটাগরিতে পাঠানো হয়। এতে বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোম্পানিগুলোর সঠিক নিয়মে চলা উচিৎ। তবে বেশির ভাগ কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে যাওয়ার পরে, তাদের অবস্থা উন্নতির চেষ্টা করে।

এসএ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ