স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সরকার আরও কঠোর হবে: কাদের
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সরকার আরও কঠোর হবে: কাদের

দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আজ সোমবার (০১ জুন) সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকলেও লকডাউন শিথিল করছে। কোথাও কোথাও তুলে নিয়েছে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জীবনের গতিপথে থেমে আসবে স্তব্ধতা। অর্থনীতিও হয়ে পড়বে স্থবির। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বেছে নিতে হবে।

গণপরিবহন চালু ও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন খালি রেখে গাড়ি চালানো শুরু হয়েছে। সরকার বাস্তবতার প্রয়োজনে ভাড়া সমন্বয় করেছে এবং আজ থেকে শর্ত সাপেক্ষে গণপরিবহন চলছে। আমি মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি ও শর্ত মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিলেন্স টিম, মোবাইল কোর্টসহ টার্মিনাল কর্তৃপক্ষকে অর্ধেক আসন খালি রাখা এবং বর্ধিত ভাড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে তদারকির আহ্বান জানাচ্ছি।

যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা অতিরিক্ত যাত্রী হবেন না। অর্ধেক আসন খালি রাখুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সংক্রমণ থেকে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান। হুড়োহুড়ি, বাড়তি যাত্রী হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংকটে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ শিথিল করেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পবিত্র মক্কা-মদিনা- মসজিদুল আকসাও ধীরে ধীরে মুসল্লিদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের অনিবার্য প্রয়োজন সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। নিজের সুরক্ষা প্রকারান্তরে পরিবার, সমাজ ও সহকর্মীদের সুরক্ষা দেবে। তাই প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে সচেতন ও সুরক্ষিত থাকি। ঘরকে গড়ে তুলি সুরক্ষার দুর্গ।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংকটের শুরু থেকে সরকার সব দফতর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে সংক্রমণ রোধ, আক্রান্তদের চিকিৎসা, টেস্টিং ক্যাপাচিটি বৃদ্ধিসহ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আকস্মিক এ সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও আজ হিমশিম খাচ্ছে। আমরা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দিনদিন সংকট সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। গড়ে তোলা হয়েছে সুসমন্বয়। কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত চিকিৎসা নেটওয়ার্ক সমন্বয় করাসহ সচেতনতা তৈরিতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সরকার। খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সহায়তাসহ নানা উদ্যোগের ফলে আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত মানুষ না খেয়ে মরেনি।

‘বিশ্বব্যাপী শেখ হাসিনা সরকারের সংকট সমাধানের সাহসী ও মানবিক প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে। আর বিএনপি খুঁজে পাচ্ছে সমন্বয়হীনতা। নিজেরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্লজ্জভাবে ব্যর্থ হয়ে দায়িত্বহীন বক্তব্য রাখছে। বিষোদগার করছে, যা প্রকারান্তরে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ও আক্রান্তদের মনোবল নষ্ট করছে। আমি সংকটে তাদের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম আর নির্বাচনে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়। তাই জনগণ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গণমাধ্যমে চর্বিত চর্বণ করছে। দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের পাশে না থেকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ থেকে দূরে অবস্থান করে নিজেদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এটা তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার, যা মানসিক বৈকল্য ছাড়া আর কিছুই নয়। দলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। নিজেদের অফিসে নিজেরা আগুন দেয়। কর্মীরা নেতাকে পিটায়, যারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে না, তারা আবার সমন্বয়ের কথা বলে?

এ দেশে দুর্যোগে গণমানুষের পাশে সবার আগে আওয়ামী লীগ ছুটে যায়, এটাই আওমী লীগের ঐতিহ্য। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকার অপচেষ্টা আর মিথ্যাচার বিএনপির ঐতিহ্য, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ