‘ধর্মকে গণতন্ত্রের কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে’

Anisujaman
Anisujaman
ফাইল ছবি

ধর্মকে গণতন্ত্রের কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ধুরন্ধর ধর্ম ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহল একে মানবিক বিদ্বেষ, হানাহানি ও মানুষে মানুষে কলহের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। একইসাথে সংসদ সদস্যরাও আইন প্রণয়নের চেয়ে বেশি নিজ এলাকার সরকারি অনুদানসহ সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে উৎসাহী হয়ে পড়েছে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘গণতন্ত্র, রাজনীতি ও ধর্ম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচকেরা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের এমন পরিস্থিতিতে আত্মশক্তি বিকাশের প্রকৃত সুযোগ সৃষ্টি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সংঘবদ্ধ করে ক্ষমতায়নের কার্যকর ভিত্তি তৈরি করতে হবে। তবেই রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতার পরিসর কমে আসবে।

সভায় এমিরেটার্স প্রফেসর মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্রে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছাকাছি না গিয়ে বরং তা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এরকম বাংলাদেশই কি আমরা চেয়েছিলাম? সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিতে একত্রিত হয়ে একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার।

জাতীয় অধ্যাপক সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, রাজনীতি থেকে ধর্মকে অবশ্যই আলাদা করতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র কখনই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। যে ধর্ম ও রাজনীতি মানুষকে সমঅধিকার নিয়ে বাঁচতে দেয় না সে ধর্ম, ধর্মই না। জঙ্গিবাদ-সহিংসতা ও রাজনীতি থেকে ধর্মের ব্যবহার বাদ দেওয়া আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাবি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শহীদুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিপরীতে গণতান্ত্রিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গেলেও আমরা তা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারিনি। দেশি-বিদেশি মানববিদ্বেষী চক্র বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক আবর্তের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

আলেম সমাজের প্রতি অনুরোধ করে তিনি আরও বলেন, পবিত্র ধর্মকে ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রাখুন। রাজনীতির মতো লোভ-লালসা এবং নানা কুটকৌশলের খেলার সঙ্গে ধর্মকে কলুষিত করবেন না।

সংসদ সদস্য শিরীন আকতার বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। আর এ নীতি বাস্তবায়নের জন্য বৃহৎ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চের যৌথ আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড অজয় রায়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবেদ খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুনুর রশীদ, ড. সরওয়ার আলী, ড. অজয় রায়, বিশপ ড. ড্যানিশ দিলীপ দত্ত প্রমুখ।

ইউএম/