ধসের মুখে থাইল্যান্ডের অটোমোবাইল খাত

thailand auto industry
থাইল্যান্ডের অটোমোবাইল কারখানা (ফাইল ছবি)
thailand auto industry
থাইল্যান্ডের অটোমোবাইল কারখানা (ফাইল ছবি)

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ধসের মুখে পড়েছে থাইল্যান্ডের অটোমোবাইল খাত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অটোমোবাইল খাতের দেশটিতে গাড়ি বিক্রির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় গত চার মাসে ৩০ হাজার কর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অস্থিরতা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষিতে গাড়ি কোম্পানিগুলো থাইল্যান্ড থেকে কার্যক্রম স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। খবর ব্যাংকক পোস্টের।

গত নভেম্বরে থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় জড়ো হলে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। থাই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা ব্যাংকক অবরোধের চেষ্টা করলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় থাইল্যান্ডে।

এত বিরোধিতা সত্ত্বেও ইংলাক নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন সম্পন্ন করেন। কিন্তু বিরোধীদের অবরোধের কারণে কয়কটি স্থানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয় থাই সরকার। পরবর্তীতে ইংলাক সরকার সুষ্ঠ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয় এবং কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন  রাখার ইংগিত দেয়। উপায়ন্তর না দেখে নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা সাংবিধানিক আদালতে মামলা ঠুকে দেয়।

অবশেষে শুনানি শেষে গত মার্চের মধ্যভাগে আদালত ওই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষিত করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ গত কয়েক দিন আগে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান ইংলাক। দেশটিতে আগামি ২০ জুলাই পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা জানিয়েছে, থাইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি চলতি বছরে প্রায় ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি থাইল্যান্ডে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চিন্তা-ভাবনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই বিনিয়োগের বিকল্প ক্ষেত্রের খোঁজ শুরু করেছে।

টয়োটার পথে পা না বাড়ালেও নতুন বিনিয়োগে ছয় মাস থেকে একমাস বিলম্ব করার চিন্তা-ভাবনা করছে হোন্ডা মোটর কর্পোরেশন। টয়োটা-হোন্ডার মতো একই অবস্থা নিশান ও ফোর্ডের। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে থাইল্যান্ডের অটোমোবাইল খাত।

ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই রাজনীতির বলি হয়ে চাকরি হারিয়েছেন দেশটির অটোমোবাইল খাতের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী। এই সব কর্মীদের অধিকাংশই বিভিন্ন কোম্পানিতে সাব-কন্ট্রাক্টে কর্মরত ছিলেন।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে থাই অটোমোবাইল অনাকাঙ্ক্ষিত ধস নামতে পারে এবং কপাল খুলে যেতে পারে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ার।