করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।


প্রিয় পাঠক, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের 

                   ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips । গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট 


আজ (২৫ মে) গণমাধ্যমকে বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করে জানান, আমি বাসায় আইসোলেশনে আছি।

এর আগে গতকাল মধ্যরাতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা নির্ণায়ক জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, ইতিমধ্যে এই প্রজেক্টে চার কোটি টাকার ওপর ব্যয় হয়েছে। যেহেতু সরকারের কোনও রকম আগ্রহ ছাড়া তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন, সে কারণে আর্থিক বিষয়টি সামনে আনতে চান না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কারণে এই প্রতিষ্ঠানের কিট পরীক্ষার বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। অন্তত ১৩ দিন আগে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কিটের ‘ইফেক্টিভনেস’ দেখতে দেওয়া হয়েছে। তারা পিসিআর-এর সঙ্গে তুলনা করে দেখছেন কিটের কার্যকারিতা। তবে, পুরো প্রক্রিয়াটিকে কেন বারবার পেছানো হচ্ছে তা নিয়ে মন্তব্য করতে কেউ রাজি হননি।

যদিও কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়েছে। সর্বশেষ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ২৫ মে হওয়ার কথা থাকলেও বাতিল করা হয়েছে। আজ ঈদুল ফিতর হওয়ায় মঙ্গলবার সীমিত পরিসরে এটি শুরু করবে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এছাড়াও ফিলিপাইন থেকে রেমন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৫) এবং সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসাবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড (১৯৯২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং মানবতার সেবার জন্য কানাডা থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন।

১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে জন্ম নেয়া জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণের পর তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এফআরসিএস পড়াকালীন তিনি তিনি চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে যুদ্ধে অংশ নেন। আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং এরপরে ডা. এম এ মবিনের সাথে মিলে সেখানেই ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক নারীকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিতেন এবং তাদের দিয়ে রোগীদের সেবা করতেন। তার এই অভূতপূর্ব সেবাপদ্ধতি পরে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল পেপার ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত হয়।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ