পুঁজিবাজারে বিবর্ণ অস্বস্তির ঈদ
সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুঁজিবাজারে বিবর্ণ অস্বস্তির ঈদ

করোনাভা্‌ইরাস মহামারিতে এলোমেলো হয়ে গেছে পুরো বিশ্ব। একই অবস্থা বাংলাদেশেও। মার্চে শেষভাগ থেকে থমকে আছে মানুষের জীবন। গতিহীন অর্থনীতির চাকা। আর্থিক সংকট ও জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তায় দেশের বেশিভাগ মানুষ প্রচণ্ড চাপে। এর মধ্যেই এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। কিন্তু খুশির ঈদে এবার ঈদটাই আছে শুধু, খুশিটা গেছে হারিয়ে।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক

গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক,গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


পুঁজিবাজারেও এবার ঈদের আনন্দ নেই তেমন। আর সবার মতো পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডাররা আছেন করোনার নানা ঝুঁকিতে। এর উপর আছে অর্থনৈতিক চাপ।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চলমান সাধারণ ছুটিতে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্ধ আছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। তাতে ব্রোকারহাউজগুলোর ছিল না কোনো আয়। পুঁজিবাজারের দীর্ঘ মন্দায় প্রচণ্ড চাপে থাকা অসংখ্য ব্রোকারহাউজ তাই লেনদেন বন্ধ থাকার চাপ সামলাতে পারেনি। আয় বন্ধ থাকায় বেশ কিছু ব্রোকারহাউজ মে মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দিতে পারেনি কর্মীদের। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এপ্রিল মাসের বেতনও বকেয়া রয়ে গেছে।

প্রায় একই সমস্যা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতেও। অনেক দিন ধরে কোনো আইপিও না আসায় ইস্যু ম্যানেজমেন্টের ফি, আন্ডাররাইটিং ফিসহ নানা খাতের আয় এমনিতে বন্ধ ছিল। করোনা ও বাজার বন্ধ থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে।

বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজের কর্মীরা প্রচণ্ড আর্থিক সংকটে। তারউপর আছে চাকরি হারানোর শঙ্কা। ঈদের পর বাজার খুললে অনেক প্রতিষ্ঠানই টিকে থাকার জন্য ব্যয় কমাতে গিয়ে কর্মী ছাঁটাই করতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে তীব্র আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপের মধ্যে ঈদ উদযাপন করেছেন কয়েক হাজার কর্মী।

ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ব্রোকারহাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে বেতন-বোনাস হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরাও স্বস্তিতে নেই। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে অনেক ব্যয়। গত আড়াই মাস তাদের কোনো আয় ছিল না। অন্যদিকে বাজার খোলার পরেও এখানে গতি ফিরতে লেগে যেতে পারে দীর্ঘ সময়। ততদিন প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ে চলবে ভাটা। কিন্তু বাস্তবতা যা-ই হোক, নিজেদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সিইওদেরকে তাদের পরিচালনা পর্ষদ, ক্ষেত্র বিশেষে মূল কোম্পানির কাছে জবাবদিহী করতে হয়। তাই তাদের মধ্যেও অনেক অস্বস্তি।

তবে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দীর্ঘ মন্দায় এদের বিনিয়োগ আটকে আছে বাজারে, অনেকে তাদের পুঁজির উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছেন। আমাদের পুঁজিবাজারে এমন বিনিয়োগকারীও আছেন পুঁজিবাজারই যাদের রুটিরুজি (যদিও সেটা উচিত নয়, পুঁজিবাজারকে প্রধান জীবিকা ভাবা অযৌক্তিক এবং পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ থাকলেই কেবল এখানে বিনিয়োগ করা উচিত)। লেনদেন বন্ধ থাকায় এরা প্রচণ্ড আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আবার লেনদেন বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য বিনিয়োগ থেকে কোনো অর্থও তুলে নিতে পারেননি তারা। অন্যদিকে করোনায় বিশ্ব অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রণ্ডের ক্ষতির মুখে পড়ায় পুঁজিবাজারে তার কী প্রভাব পড়ে তা নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগ আছে তাদের মধ্যে।

সব মিলিয়ে প্রচণ্ড চাপ ও অস্বস্তি নিয়ে ঈদ এসেছে পুঁজিবাজারে। এমন বিবর্ণ ঈদ এর আগে দেখেনি দেশের পুঁজিবাজার।

এই বিভাগের আরো সংবাদ