বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ভিন্ন এক আবহে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ভাইরাসটির সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবার জাতীয় ঈদগাহ মাঠসহ দেশের সকল ঈদগাহে ঈদের জামাত বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রায় ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠেও এবার প্রথমবারের মতো ঈদের জামাত হয়নি।

রাজধানীতে প্রধান জামাত ছিল মূলত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। এই মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব এবং অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই এই জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সোমবার সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।

জামাত শেষে খুতবা পেশ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়েছে। এছাড়া মোনাজাতে সব উম্মতে মোহাম্মদির গুনাহ মাফ চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা প্রবেশ করেন মসজিদে। ঈদ জামাত, কোলাকুলি ও হাত মেলাতে মানা থাকায় সেগুলো মেনেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে প্রতি বছরের মতো এবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সাধারণত জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি অংশ নেন। এবার বঙ্গভবনে অনুষ্ঠেয় ঈদের জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বঙ্গভবনের দরবার হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম হাফেয মাওলানা এহসানুল হক। ১০ টায় অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতে ইমামিত করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান।