নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলায় স্বজনদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

narayanganj
নারায়ণগঞ্জের মানচিত্র: ফাইল ছবি
narayanganj
নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি নিহতদের স্বজনদের সাক্ষ্য নেওয়া শুরু করেছেন।

শনিবার সকাল ১০টার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তাদের সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ নিহত সাতজনের পরিবারের সদস্যরা তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে। সাত খুনের মামলা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির সদস্যরা গত ৮ মে বিকেলে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন। পরে তারা অপহরণের স্থান ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা এবং বন্দর উপজেলার শান্তিনগর (লাশ উদ্ধারের স্থান) পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার তদন্ত কমিটি গঠনের পর বৃহস্পতিবার আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

র‌্যাব বা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, তদন্তের স্বার্থে যার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন, তার সঙ্গে কথা বলবে কমিটি। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামি ১৫ মেমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, গণতদন্তের মাধ্যমে সাতজন অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সদস্য বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না? অপহরণের খবর পাওয়ার পর অপহৃত ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল কি না? এসব বিষয়ে কাজ করবে কমিটি। আগামি সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহৃত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার চার সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহৃত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। গত ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে আরেকজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়।

এমই