জীবন-জীবিকার স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত!

জীবন-জীবিকার স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের এই মহামারি সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনা ভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তার এ বক্তব্যে চলমান সাধারণ ছুটির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত আছে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামাহি মোকাবেলায় গত ২৪ মার্চ সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। পরে একটি কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ঘোষণা অনুসারে এই ছুটি চলবে ৩০ মে পর্যন্ত। কিন্তু গত এক সপ্তাহে দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়াআ অর্থাৎ নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ছুটির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আজকের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ছুটির মেয়াদ আর না-ও বাড়তে পারে।

আজকে বক্তৃতায় করোনা বাস্তবতায় বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই এরইমধ্যে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই।

শেখ হাসিনা বলেন, রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে। যারা কাজে যোগ দিতে পারেননি, তারাও শতকরা ৬০ ভাগ বেতন পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বেতনভাতা পরিশোধ করা শুরু হয়েছে। দোকান-পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একদিকে মালিকদের আয় যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি কর্মচারীরাও বিপাকে পড়েছেন। বেশিরভাগ দোকান মালিকের কর্মচারীদের বেতন দেয়ার সামর্থ্য নেই। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নিয়ম-কানুন মেনে কিছু কিছু দোকানপাট খুলে দেয়ার অনুমোদন দিয়েছি। যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন এবং যারা দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন, আপনারা অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। ভিড় এড়িয়ে চলবেন।

আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মনে রাখবেন আপনি সুরক্ষিত থাকলে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিবেশী সুরক্ষিত থাকবে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধান বলেন, ঝড়-ঝঞ্ঝা-মহামারি আসবে। সেগুলো মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সঙ্কট যত গভীরই হোক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা উতরানো কোনো কঠিন কাজ নয়। এই সত্য আপনারা আবারও প্রমাণ করেছেন। আপনাদের সহযোগিতা এবং সমর্থনে আমরা করোনা ভাইরাস মহামারির আড়াই মাস অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছি। যতদিন না এই সঙ্কট কাটবে, ততদিন আমি এবং আমার সরকার আপনাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ