নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর

করোনাকালে সুখবর পেতে চলছেন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ইতিমধ্যে জরুরিভিত্তিতে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরসহ তাদের তথ্য চেয়েছে সরকার। আগামী ২৮ মে এর মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ই-মেইলে এসব তথ্য প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেতন পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য প্রণোদনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের মুখপাত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি এবং এবং শিক্ষক বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি মহাসচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্স আবেদন পাঠান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে। এই আবেদনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সবুজ সংকেত পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রণোদনা চেয়ে প্রস্তাব পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এখনও প্রস্তাবের বিপরীতে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত পায়নি মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, হয়তো সামান্য কিছু করে হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এখন বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারিদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনপ্রাপ্ত বা যেসব প্রতিষ্ঠানের ইআইআইন নম্বর আছে শুধুমাত্র তাদের তথ্যই চাওয়া হয়েছে। করোনাকালে এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।

এদিকে শনিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন দেশের সব জেলা প্রশাসকদের নন-এমপিও স্কুল কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্ধারিত ছকে তালিকা চেয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে যাচাই করে আগামী ২৮ মে’র মধ্যে জেলা প্রশাসকদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য চেয়ে পাঠানো নির্ধারিত ছকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিকাশ, রকেট, নগদ ও শিওর ক্যাশের নম্বরও চাওয়া হয়েছে। এছাড়া নামের বানানসহ এনআইডি নম্বর চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সংযুক্ত ছক মোতাবেক তথ্যাদি আগামী ২৮ মে এর মধ্যে [email protected] এবং [email protected] এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আর শিক্ষক-কর্মচারীদের নামের ইংরেজি বানান এনআইডি কার্ডের অনুরূপ হতে হবে এবং প্রদও মোবাইল নম্বরও এনআইডির সঙ্গে মিল থাকতে হবে।

ছকে ১৩টি তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- ডিভিশন কোড, জেলা কোড, উপজেলা কোড, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম, শিক্ষক-কর্মচারির নাম, পদবী, জেন্ডার, জন্ম তারিখ, এনআইডি নম্বর, স্মার্ট আইডি, মোবাইল নম্বর এবং মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর (বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা সিওর ক্যাশ)।

জানা যায়, ঈদের ছুটির মধ্যেও এসব তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছেন জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা। চলতি অর্থবছরে দুই হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর দেশে এখন নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। আর এতে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ