করোনাঃ ফুটপাতে ৩০ ঘণ্টা পড়েছিল পুলিশের লাশ
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনাঃ ফুটপাতে ৩০ ঘণ্টা পড়েছিল পুলিশের লাশ

ব্রাজিলে করোনাভাইরাস মহামারির চরম অবনতি ঘটেছে। দেশটিতে ঝড়ের গতিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর খামখেয়ালিপনা, পরিস্থিতি মোকাবেলার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নেওয়া, মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থনীতি তথা কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় এই পরিণতি দেশটির। আর তাতে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা-ই যেন ভেঙ্গে পড়ছে। চিকিৎসার অভাবে এখানে সেখানে মারা যাচ্ছে মানুষ। লাশ পড়ে থাকছে রাস্তায়। এর আগে এমনটি ঘটেছিল ইকুয়েডরের একটি শহরে।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরেরর এমন একটি ঘটনা দেশটিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে আতঙ্কে কুঁকড়ে উঠেছে দেশবাসী। কারণ সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও এমন পরিণতি হতে পারে। ঘটনাটি করোনা উপসর্গ নিয়ে একজন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর।

জানা গেছে, গত ১৮ মে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন ৬২ বছর বয়সী পুলিশ সদস্য ভালনির মেন্ডিস দ্যা সিলভা। ঘটনা দেখে পথচারীরা এগিয়ে আসেন। খবর দেন শহরের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছার আগেই মৃত্যু ঘটে মেন্ডিসের। অ্যাম্বুলেন্স আসা প্যারামেডিক কর্মী তার পালস পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহ নিতে রাজি হননি তিনি। কারণ বিধি অনুসারে, এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে কেবল সাধারণ নাগরিকদের মৃতদেহ বহন করা যায়।

উপায় না দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তারাও লাশ সরাতে এবং শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করতে রাজি হয়নি। কারণ আইন অনুসারে নাকি, সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের হাতে কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হলে সেই লাশই কেবল পুলিশের গাড়িতে সরানোর কথা বলা আছে।

৩০ ঘণ্টা পর লাশ সরানো হচ্ছে

কর্তৃপক্ষগুলোর দায়িত্ব অস্বীকার এবং ঠেলাঠেলির কারণ ফুটপাতেই পড়ে থাকে লাশ। পরে মৃত মেন্ডিসের সৎ পুত্র মার্কোস ভিনিসিয়াস আন্দ্রে দ্যা সিলভা লাশ সৎকারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই লাশ সরিয়ে নিয়ে সৎকারের ব্যস্থা করেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বহীনতা এবং গোষ্ঠি স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে ব্রাজিল বিশ্বে করোনাভা্ইরাসের অন্যতম প্রধান হটস্পটে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে মাত্র এক সপ্তাহে এক লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে রাশিয়াকে সরিয়ে আক্রান্তের তালিকায় দ্বিথীয় স্থানে উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে ২১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

কিন্তু দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটিতে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকার ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে কম পরীক্ষা হচ্ছে করোনার, ব্রাজিল তার অন্যতম। অন্যদিকে ডি সিলভার মতো অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনার উপসর্গ নিয়ে, কিন্তু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় বা মৃত দেহের নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না সরকার।

রয়টার্স, গালফ নিউজ ও বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে

এই বিভাগের আরো সংবাদ