ক্রেতা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় টাকা বিক্রেতারা
মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ক্রেতা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় টাকা বিক্রেতারা

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই খুশি। এ আনন্দে অনিবার্য অনুষঙ্গ সালামি। আর সালামি হিসেবে ঝকঝকে নতুন নোট পেলে উচ্ছ্বসিত হয় সব বয়সের মানুষই। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সব কিছু বিলীন করে দিয়েছে। এবার নতুন নোট বিনিময়ের জন্য ব্যাংকগুলোতে ভিড় নেই। ব্যাংকের বাহিরে অস্থায়ী নোট বিক্রেতারা খুঁজে পাচ্ছেন না সেলামিদাতাদের। ফলে মন্দা যাচ্ছে ব্যবসা।

আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক ও সেনাকল্যাণ ভবনের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিবারের মত এবারও নতুন টাকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। টুল নিয়ে বসে আবার কেউ দাঁড়িয়ে বিক্রি করছেন টাকা। আইন অনুযায়ী বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বছরের পর বছর অবাধেই চালিয়ে যাচ্ছেন এ ব্যবসা। তবে এখানে যারা ব্যবসা করেন তারা সবাই নিম্ন আয়ের লোক; নোট বিক্রির এ আয়েই চলে তাদের সংসার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সারা বছর নতুন পুরানো ব্যবসায়ীসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন টাকার নোট বিক্রি করে থাকেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় নতুন টাকা সংগ্রহ করেন তারা। কিন্তু করোনার কারণে নতুন নোটের ব্যবসায়ী কমে গেছে। প্রতিবার ঈদে নতুন নোটের জমজমাট ব্যবসা হলেও এবার করোনার কারণে পুরাই খরা। রাস্তায় মানুষ কম। দুই একজন যাও আসছে আগেরও মত কেউ নতুন টাকা নিতে চাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা খারাপ। এমন অবস্থা আগে কখনো হয়নি বলে জানান নতুন নোট বিক্রেতারা।

এদিকে সেনা কল্যাণ ভবন এর সামনের গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ও পুরুষ টুল নিয়ে বসে আবার কেউ দাঁড়িয়ে নতুন নোট বিক্রি করছেন। যেকোন গাড়ি এসে থামলে দৌঁড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন একাধিক টাকা বিক্রেতা। ক্রেতা পাওয়ার জন্য এক ধরণের প্রতিযোগিতা চলছে তাদের মধ্যে।

রাশিদা বেগম নামের এক নোট বিক্রেতা জানান, আগে ঈদের সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেচা-কেনা চলতো। চাঁদ রাত পর্যন্ত বিক্রি করতাম। এবার একটা কাস্টমারও নেই। করোনার কারণে মানুষ নতুন টাকা নিতে চায় না। লোকই নাই। দুপুর হয়ে গেছে একটি বান্ডিলও বিক্রি করতে পারি নাই।

তিনি বলেন, নতুন নোট বিক্রি করে যে আয় হয় ওই টাকায় চলে সংসার। গত দুই মাস কোনো আয় নেই। ঈদ তো পরের কথা ঘরে ভাতই তো নেই। আমাদের কে খাওয়াবে। বসে আছি কিছু আয় হলে এক বেলা ভাত তো জুটবো।

রাশিদা বেগম জানান, টাকার পরিমান ভেদে বান্ডিল প্রতি বেশি নিচ্ছেন ৫০ থেকে ১০০ টাকা। টাকার প্রতিটি বান্ডিলে ১০০টি নোট থাকে। ১০ ও ২০ টাকার বান্ডিল বিনিময় মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ৭০ নিচ্ছেন। ৫০ ও ১০০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত নিচ্ছেন ১০০ টাকা এবং ২০০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিলে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।

এদিকে করোনায় নতুন নোটের বিনিময় ও বিক্রি কম হলেও নগদ লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলোতে টাকার চাহিদা বেড়েছে। এবার ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষ্যে বাজার থেকে পুরাতন টাকা তুলে নিয়ে নতুন করে ৩০ হাজার কোটি নতুন টাকা সরবরাহ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে প্রথমে ২৫ হাজার কোটি টাকার নোট সরবারহ করার কথা ছিল। যা ইতিমধ্যে বাজারে সরবারহ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ