কিলার রোবট নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জাতিসংঘ

killer robot
সাইন্স ফিকশন মুভির একটি দৃশ্য (ফাইল ছবি)
killer robot
সাইন্স ফিকশন মুভির একটি দৃশ্য (ফাইল ছবি)

কোন কোন প্রযুক্তি জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়। এমনই এক প্রযুক্তি ‘কিলার রোবট’। বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলেও কিলার রোবট ইতোমধ্যেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘের জন্য। সংস্থাটি কিলার রোবটের অনুমোদন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেছে। তাই আগামি সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে সংস্থাটি। খবর বিবিসির।

কিলার রোবট এমন যন্ত্র যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টার্গেট নির্বাচন করে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে এর কোন অস্তিত্ব নেই, তবে সেই দিনও আর বেশি দূরে নয়। কেননা ইতোমধ্যেই ড্রোনের মতো স্বয়ংক্রিয় ঘাতক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছে।

আগামি দিনের এই যান্ত্রিক যম নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। একপক্ষ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কিলার রোবট উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যপক্ষ এই যন্ত্রের উদ্ভাবন এখনই ঠেকাতে চাইছে। কেননা এই পর্যন্ত উদ্ভাবিত সব মারণাস্ত্রই জীবন কেড়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এই নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আগামি সপ্তাহে জেনেভাতে বিতর্কের আয়োজন করছে জাতিসংঘ। এই বৈঠকে কিলার রোবট নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন রোবট আর্মস কন্ট্রোলের প্রধান নোয়েল শার্কি এবং তার বিপক্ষে থাকবেন জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক রোনাল্ড আরকিন।

কিলার রোবট সম্পর্কে নোয়েল শার্কি বলেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় রাষ্ট্রগুলো কখনোই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে না, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এমনকি তারা এখনই নিজেদের মধ্যে কোন আলোচনা করতে চাইছে না।

শার্কির বক্তব্যকে সমর্থন করলেও অধ্যাপক আর্কিন কিলার রোবট নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, এমনটি ঘটছে। কিন্তু কিলার রোবট ব্যবহারের মাধ্যেমে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই আমি এখনই এই প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করাকে সমর্থন করছি না।