করোনায় বিপন্নদের পাশে আভা
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় বিপন্নদের পাশে আভা

আলোর মিছিলে আমরা (AVA)। সাত জন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টের (সিএমএ) তৈরি প্ল্যাটফরম। একটি কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (Charity Organization)। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গত ২৬ মার্চ এটি গঠিত হয়। উদ্দেশ্য-করোনায় দুর্যোগ কবলিত সাধারণ দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। শুরুটা হয়েছিল স্বাস্থ্য কর্মী, ছাত্র-ছাত্রী, ভাসমান শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে, মাস্ক ও গ্লাভস দিয়ে। পরে করোনা মোকাবেলায় ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে শ্রমজীবী মানুষ অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়লে সংগঠনটি তার কাজের ধরনও বদলায়। তাদের সহায়তার তালিকায় যোগ হয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা।

শুরুটা হয়েছিল ঢাকা শহরকেন্দ্রিক কিছু কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য খাতে তা বিস্তৃত হয়। ইতোমধ্যে আভার সেবামূলক কার্যক্রম ঢাকার বাইরে  বরিশাল, ফরিদপুর,পাবনা, কেরানিগঞ্জ, গুড়া, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, যশোর বিস্তৃত হয়েছে।

আভা (AVA) এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ পরিবারকে, ৪০ জনকে নগদ, ১৩০০ জনকে ইফতার ও দুইটি লিল্লাহ বোডিং এর ৩০০ ছাত্রদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছে ইতোমধ্যে। তাঁদের টার্গেট ন্যূনতম ৫০০০ পরিবার প্রধানের হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া۔

শুরুতে সাত উদ্যোক্তাই সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পরে কাজের পরিধি বাড়াতে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত করেছেন কিছু স্বেচ্ছাসেবি। বর্তমানে ২০ জন এর অধিক স্বেচ্ছাসেবী আভা’র জন্যে কাজ দেশব্যাপী করছে।

আভা’র অন্যতম উদ্যোক্তা শামীমুল ইসলাম শামীম সংগঠনটির জন্ম সম্পর্কে বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশ অদৃশ্য এক ক্ষুদ্র ভাইরাসের তাণ্ডব মোকাবেলায় লকডাউনে (সাধারণ ছুটি) যেতে বাধ্য হয়েছে। ছুটির ঘোষণা যখন আসি আসি করছে তখনই সারাদেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা-মজুদের হিড়িক লেগে যায়। কিন্তু সেটি তো করেছে সামর্থ্যবানরা। দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কেনার সামর্থ্য কই? অথচ এমন মহামারীতে তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এমন এক পরিস্থিতিতে আভা’র একজন উদ্যোক্তা হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে ছুটে যান ডাক্তার,স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে। দিন যেতে থাকলে স্যানিটাইজার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়েও জরুরি হয়ে উঠে খেয়ে বেঁচে থাকা। কারণ ছুটি দীর্ঘায়িত হতে থাকায় দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষসহ অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার চরম অর্থ সংকটে পড়ে যায়।অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটতে থাকে তাদের। এমন অবস্থায় আভা’র বোর্ড সদস্যরা সব কিছু নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। ঠিক করেন,তাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে যতটুকু পারা যায় এদের পাশে দাঁড়াবেন। শুরু হয় দুর্যোগপীড়িত পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রি বিতরণ।এদের কাছে পৌঁছে যেতে থাকে আভার ফুড ব্যাগ। বিশেষ করে যাঁরা আর্ত ও চরম অর্থাভাবে আছে কিন্তু কারো কাছে হাত পেতে চাইতে পারে না এমন পরিবারই পেয়েছে আভা’র খাদ্য সহায়তা।

দিনে দিনে আভার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনই এর আলোকচ্ছটা পৌঁছে দেশের নানা প্রান্তে, দেশের বাইরেও। তাই শুরুটা একান্ত নিজেদের অর্থে কার্যক্রম চললেও পরে অনেক শুভানুধ্যায়ী,করপোরেট প্রতিষ্ঠান এর পদস্থ কর্তাব্যাক্তি আভা’র পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি সাহায্য আসে সুদূর কানাডা, ইউএই, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এর শুভাকাঙ্খীদের কাছ হতেও। আর তাতেই বাড়ানো সম্ভব হয় আভা’র পরিধি।

মানবিক এই উদ্যোগের বীজ যাঁরা রোপন করেছেন তাঁরা হলেন হাসনাইন তৌফিক আহমেদ, এফসিএমএ, মোঃ বেলায়েত হোসাইন, এসিএমএ, মোঃ জিল্লুর রহমান, এফসিএমএ, শামীমুল ইসলাম,এসিএমএ, তারিক খান, এসিএমএ, তানজিনা হক, এসিএমএ ও ফয়সাল কবির সোহাগ, এসিএমএ।

উক্ত বোর্ড সদস্য ছাড়াও আভা’র সাথে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে আছেন ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, চাকুরীজীবি ও গৃহিণী۔ যারা উপকারভোগীদের খুঁজে বের করেন আবার খাদ্যসামগ্রী তাদের কাছে পৌঁছে দেন۔ কখনো কখনো সংগোপনে উপকারভুগীর দরোজায় গিয়ে পৌঁছে দেন এক সপ্তাহের চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবন, চিনি, সেমাই, চিড়া ও সাবান- প্রচলিত ধারায় আভা সহায়তা প্রদান করে না। তাই এই অল্প সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে একটা বিশ্বস্থতা অর্জন করেছে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক হতে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও নির্দ্বিধায় তাঁদের যে কোনো দান বা যাকাতের অর্থ তুলে দিচ্ছেন আভা’র কাছে।

স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত এই কাজের মূল নেতৃত্বে এখন আছেন হাসনাইন তৌফিক আহমেদ, যিনি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশের ফিনান্স ডিরেক্টর।

তিনি এ বিষয়ে বলেন আভা’র প্রভা ছড়িয়ে পড়ুক দেশময়। আমাদের উদ্যোগে সামিল হোক সব শ্রেণীর মানুষ, তাহলে একদিন ক্ষুধা মুক্ত দেশ গড়ে তোলা যাবে ইনশাআল্লাহ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ