বড় ভাইকে আইসিইউর সিট ছেড়ে দিয়েও বাঁচাতে পারলেন না
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
চট্টগ্রামে করোনার চিকিৎসায় সংকট

বড় ভাইকে আইসিইউর সিট ছেড়ে দিয়েও বাঁচাতে পারলেন না

একই দিনে পাঁচ ভাইয়ের দেহে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। আজন্ম একই বাউন্ডারিতে থাকা পাঁচ ভাই-ই বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। এর মধ্যে ছোট ভাইয়ের অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও বাড়ি ফেরার মতো অবস্থা হয়নি। এর মধ্যেই অবস্থার অবনতি ঘটে সবার বড় ভাইয়ের। তাকেও নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সিট যে একটিও খালি নেই!বড় ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর মমত্ববোধ থেকে ছোট ভাই তার নিজের সিট ছেড়ে দিলেন। কিন্তু নিষ্ঠুর করোনা’র তাতেও এতটুকু করোনা হয়নি। ছোট ভাইয়ের সামনেই কেড়ে নিল তাকে। করোনা জটিলতায় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন বড় ভাই।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


এমন ভালোবাসা, হতাশা আর হৃদয়বিদারক ঘটনা শিকার এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের পরিবার। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এই পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই মোরশেদুল আলম করোনায় মারা যান।

উল্লেখ,গত সপ্তাহে পরিবারের কয়েকজন সদস্য অসুস্থ বোধ করায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। গত রোববার (১৭ মে) প্রাপ্ত রিপোর্টে ৬ জন করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। করোনায় আক্রান্তরা হচ্ছেন, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদুল আলম (৬২), এস আলম গ্রুপের পরিচালক  রাশেদুল আলম (৬০),এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু (৫৩),ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম (৪৮) এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ওসমান গণি (৪৫)। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের এক ভাইয়ের স্ত্রী।

করোনারভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর শুরুতে সবাই নিজেদের বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে মোরশেদুল আলমের অব্যবহিত ছোট ভাই রাশেদুল আলমের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মোরশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকেও একই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর তুলনায় হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ একেবারে কম।চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ’র ১০টি সিট আগেই পূর্ণ হয়ে আছে। কাউকে আইসিইউ থেকে জোর করে বাইরে পাঠিয়ে মোরশেদ আলমের সিটের ব্যবস্থা করা তো আর সম্ভব নয়।এমন অবস্থায় ছোট ভাই রাশেদুল আলম  বড় ভাইয়ের জন্য স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন তার নিজের সিট। আর ওই সিটেই শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।

শুক্রবার মধ্যরাতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ফুপাত ভাই রেজাউল হক চৌধুরী মোস্তাক ফেসবুকে এই হৃদয় মথিত করা ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন,করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মোরশেদুল আলম তার অন্য চার ভাইয়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের সুগন্ধার বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে মোরশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।সেখানে আইসিইউ ওয়ার্ডে আগে থেকেই এস আলম পরিবারের আরেক সদস্য রাশেদুল আলম চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি আরও লিখেছেন,চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের দশটি শয্যার সবকটিই পূর্ণ থাকায় সেখানে গুরুতর অসুস্থ মোরশেদুল আলমকে ভর্তি করা যাচ্ছিল না। তবে অপর ভাই রাশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার তুলনামূলক উন্নতি হওয়ায় তাকে আইসিইউ ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে সেখানে প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের বড় ভাই মোরশেদুল আলমকে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার রাতেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে করোনায় মৃতদেহ দাফনের প্রটোকল মেনে মোরশেদুল আলমকে কবর দেওয়া হয়। মৃত্যুর ঘণ্টা খানেক পরেই একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মোরশেদুল আলমের মরদেহ চট্টগ্রাম শহর থেকে পটিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এস আলম জামে মসজিদ কমপ্লেক্স চত্বরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১ টা ৩০ মিনিটে জানাজা শেষে পটিয়া পৌর সদরের ৪ নং ওয়ার্ডের নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ