করোনায় মারা গেছেন এস আলম গ্রুপের এক পরিচালক

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠি এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। তিনি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও  ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


আজ শুক্রবার (২২ মে) রাতে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে। গত ১৭ মে তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়। তবে উপসর্গ তেমন তীব্র না হওয়ায় তিনি বাসাতেই আইসোলেশনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ শুক্রবার সকালেও তার অবস্থা ছিল স্থিতিশীল। সন্ধ্যায় হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হয়। হার্ট অ্যটাক হয় তার। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোরশেদ আলম বেসরকারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের একজন পরিচালক ছিলেন। তিনি ছিলেন এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেমন ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান।

উল্লেখ, গত সপ্তাহে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পাঁচ ভাইসহ তার পরিবারের মোট ৬ সদস্য নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এস আলম গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবুও রয়েছেন।

পরিবারের কয়েকজন সদস্য অসুস্থ বোধ করায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা দেওয়া হয়েছিল পরীকষার জন্য। গত রোববার (১৭ মে) প্রাপ্ত রিপোর্টে ৬ জন করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে শনাক্ত হন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যবসায়ীর ৫ ভাই ছাড়া তাদের পরিবারে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া অন্যজন হলেন তার এক ভাইয়ের স্ত্রী।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক

গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক,গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


করোনায় আক্রান্তরা হচ্ছেন, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদুল আলম (৬২), এস আলম গ্রুপের পরিচালক  রাশেদুল আলম (৬০), এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু (৫৩), ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম (৪৮) এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ওসমান গণি (৪৫)। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের এক ভাইয়ের স্ত্রী।

এদের মধ্যে আজ মোরশেদ আলম মারা গেলেন। তবে বাকীদের স্বাস্থ্য ভাল আছে বলে জানা গেছে।

এস আলম গ্রুপ দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক,  সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল),  ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড।

এছাড়া অবসায়নের পথে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ কয়েকটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সসহ কয়েকটি ্ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিংহভাগ মালিকানাও এই গ্রুপের হাতে। ‌

এতগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কারণে এস আলম গ্রুপের কর্ণধারদের সুস্থ থাকা না থাকার উপর ব্যাংকিং খাত  তথা অর্থনীতির ভালোমন্দও কিছুটা নির্ভর করে। তাই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের ৫ ভাইয়ের করোনায় আক্রান্তের ঘটনায় আর্থিক খাতে ঝুঁকি আরেকটু বেড়ে গেল।

তবে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মূল কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ সুস্থ আছেন। তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তিনিই গ্রুপটির প্রধান চালিকা শক্তি।