ভারতে করোনার তাণ্ডব বাড়ছে, একদিনে ৬ হাজার নতুন রোগী
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভারতে করোনার তাণ্ডব বাড়ছে, একদিনে ৬ হাজার নতুন রোগী

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝড় চলছে। ব্যাপক গতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভাইরাসটি বিস্তার ঠেকানোর সর্বাত্মক চেষ্টার মধ্যেও নতুন সংক্রমণ আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৬ হাজার ৮৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিই একদিনে সর্বোচ্চ নতুন রোগী পাওয়ার ঘটনা।

যত দিন যাচ্ছে দেশটির কয়েকটি রাজ্যের পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছে। রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা মহারাষ্ট্রের। এই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৩৪৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। রোগী বেড়েছে বেশিরভাগ রাজ্যে। এর মধ্যে প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে নতুন রোগী বেড়েছে ৯৪ জন।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


গত ১৮ মে দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছিল। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে  রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৭ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৪৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৩ জন। শুধু মহারাষ্ট্রেই করোনায় মানুষ মরেছে বাংলাদেশের প্রায় চার গুণ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই রাজ্যে ১ হাজার ৪৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭৭৩ জন মারা গিয়েছেন গুজরাতে। মধ্যপ্রদেশে মৃতের সংখ্যা ২৭০, পশ্চিমবঙ্গে ২৫৯। শতাধিক মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে দিল্লি (১৯৪), রাজস্থান (১৫১) ও উত্তরপ্রদেশ (১৩৮)।

অবশ্য ভারতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গত মাসেই দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আভাস দিয়েছিল, মে মাসে সেখানে করোনার সংক্রমণ চূড়ান্ত (Peak) পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যদি এ মাসের শুরু দিকে দেশটির কিছু বিশেষজ্ঞ অভিমত দিয়েছেন, মে নয়, জুনে হতে পারে পিক। এ হিসেবে অন্ততঃ জুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশটিতে এভাবে রোগী বাড়বে বলেই ধারণা করা যায়।

অবশ্য মে মাসের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতে করোনার সম্ভাব্য মহামারি (Peak) আসতে পারে বলে বিভিন্ন গবেসণা বলা হয়েছিল। একই আশংকা করেছিল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও। তবে তারা এটিও বলেছিল, লকডাউন অব্যাহত থাকলেও হয়তো এ আশংকা এড়ানো যাবে। কিন্তু লকডাউনের মধ্যেও নতুন রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ওই আশংকাই সত্যি হয় কি-না সে ভাবনা পেয়ে বসেছে।

করোনা সংক্রমণে গোড়া থেকেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। ভারতে মোট আক্রান্তের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি এই রাজ্য, গতকাল পর্যন্ত যা সংখ্যায় ছিল ৪১ হাজার ৬৪২ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। সে রাজ্যে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৯৬৭ জন এর ঠিক পরেই রয়েছে মোদির নিজ রাজ্য গুজরাত। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৯০৫ জন। রাজধানী দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৬৫৯ জন। এর পর ক্রমান্বয়ে রয়েছে রাজস্থান (৬,২২৭), মধ্যপ্রদেশ (৫,৯৮১), উত্তরপ্রদেশ (৫,৫১৫), পশ্চিমবঙ্গ (৩,১৯৭), অন্ধ্রপ্রদেশ (২,৬৪৭), পঞ্জাব (২,০২৮), বিহার (১,৯৮২), তেলঙ্গানা (১,৬৯৯), কর্নাটক (১,৬০৫), জম্মু-কাশ্মীর (১,৪৪৯) ও ওড়িশা (১,১০৩), হরিয়ানা (১,০৩১)-র মতো রাজ্য।

তবে দেশটিতে এই অবস্থার মধ্যেও আশা জাগাচ্ছে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠার হার। ভারতে এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৩৪ জন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ২৩৪ জন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ