ব্রোকারহাউজে আতঙ্ক বাড়ছে
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

ব্রোকারহাউজে আতঙ্ক বাড়ছে

broker house

নিম্নমুখী বাজারে অনেকটাই ফাঁকা ব্রোকারহাউজগুলো

পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দর পতন আর লেনদেনের নিম্নমুখী ধারায় আতঙ্কে ব্রোকার হাউজগুলো। লেনদেন কমে যাওয়ায় তাদের কমিশন আয়ও কমছে। পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ধসের পর থেকে চলমান এ ধারায় টিকে থাকতে অনেক হাউজ ইতোমধ্যে জনবল ছাঁটাই করেছে। কমিয়ে এনেছে অনেক প্রয়োজনীয় ব্যয়। তারপরও টিকে থাকার কঠিন হয়ে উঠছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ব্রোকারহাউজগুলো কোনোরকমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেও অন্যদের পক্ষে সেটি সহজ হবে না। এমন অবস্থায় আতঙ্ক বাড়ছে ব্রোকারহাউজগুলোতে।

সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবার মতিঝিলের ব্রোকারেজ হাউজগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ হাউজেই বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি ছিল কম। আর যে কয়েকজন বিনিয়োগকারী ছিল তাদের মুখেও ছিল হতাশার ছাপ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক মাস ধরেই পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক গতিশীলতা নেই। বেশিরভাগ সময়ে সূচক ও লেনদেনের পতন হয়েছে। আর মাঝে মাঝে বহুজাতিক ও বড় মূলধনী কোম্পানির উপর ভর করে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, বাজারে গত এক মাস ধরে দরপতন চলছে। তাই বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় রয়েছে। কারণ ২০১০ সালের বড় ধরনের লোকসানের পর সবাই একটা ইতিবাচক বাজারের আশায় রয়েছে। কিন্তু বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে তারা।

এ প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশিদ সিকিউরিটিজ হাউজের প্রধান অপারেটিং কর্মকর্তা জামিল মাশরুর অর্থসূচককে বলেন, যখন বাজারের স্বাভাবিক গতি ছিল তখন গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কোটি লেনদেন ছিল। আর এখন লেনদেন নেমে গেছে দেড় থেকে দুই কোটিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক কষ্টে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি। আর দরপতনের ধারা চলতে থাকলে সামনে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। এখন বাজারকে গতিশীল করতে সরকারের কোন উদ্যেগ নেই। তবে বাজারকে গতিশীল করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

মিঞা আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজ হাউজের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, বাজারে ধারাবাহিক দরপতন চললে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ প্রতি মাসে অনেক কষ্টে বেতন দিতে হয়। হাউজটির গড় লেনদেন ৫০ লাখ টাকায় নেমে গেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাজারে দরপতনের পেছনে কোম্পানিগুলোর আয় আর লভ্যাংশ একটা বড় বিষয়। কোম্পানিগুলোর ঘোষিত লভ্যাংশ আর প্রান্তিক আয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্তোষ হচ্ছে না। তাই আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে।

তবে বর্তমান বাজারের দরপতনকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, এই সময়ে বাজারে দর বাড়ার কথা থাকলেও দর কমছে। কারণ আবারো হত্যা,গুম এবং অপহরণের মত ঘটনা বেড়ে গেছে দেশে। এদিকে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিও বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। তাই দেশের এই অস্থিরতা পুঁজিবাজারের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এসএ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ