পুঁজিবাজারের একজন মানবিক সিইও
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুঁজিবাজারের একজন মানবিক সিইও

করোনার দুর্যোগে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অনেক চাকরিজীবী বেতন পাচ্ছেন না নিয়মিত। শ্রমজীবীদের আয়রোজগার নেই একেবারেই। সাধারণ ছুটিতে প্রায় সব ধরনের অফিস বন্ধ। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি করোনার ভয়েও বেশিরভাগ মানুষ গুটিয়ে আছে নিজ নিজ বাসায়। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ আছেন। এরা নিজেদের প্রয়োজনে নয়, মানুষের কল্যাণে বাইরে আসছেন। অনেক ঝুঁকি নিয়ে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।


অর্থসূচকে প্রকাশিত পুঁজিবাজার ও ব্যাংক-বিমার খবর গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো এখন নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ফেসবুক

গ্রুপ Sharebazaar-News & Analysis এ। প্রিয় পাঠক,গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


পুঁজিবাজারের এমন এক মানবিক মুখ নুর মোহাম্মদ বাবু। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান স্মার্ট শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও নির্বাহী পরিচালক তিনি।

করোনা মোকাবেলার সাধারণ ছুটিতে আয়রোজগার না থাকায় ডিএসই এবং সিএসইর অসংখ্য ব্রোকারহাউজ যেখানে এখনো কর্মীদের এপ্রিল মাসের বেতন দেয়নি, সেখানে তার প্রতিষ্ঠানে মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করে দিয়েছেন। বেতন দিতে মূল স্মার্ট গ্রুপ থেকে টাকা ধার করেছেন। কর্মীদের বেতন দেওয়ার সুবিধার্থে নেননি নিজের বেতন-ভাতা।

জানা গেছে, কর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। করোনার সংকটের কারণে কাউকে চাকরি হারাতে হবে না বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন। পরামর্শ দিয়েছে নির্ভয়ে থাকার।

নুর মোহাম্মদ বাবু শুধু তার সহকর্মী নয়, তাদের বাইরেও অনেক সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই দুর্যোগকালে। করোনায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষদের গোপনে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া,  মৃত মানুষের দাফন-কাফনে সহায়তাসহ নানাভাবে তিনি সহায়তা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ অ্যাসোসিয়শনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও লায়ন্স ক্লাবের ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪ এর জোন চেয়ারম্যান নুন মোহাম্মদ বাবু নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

জানা গেছে, নুন মোহাম্মদ বাবু পুঁজিবাজারসহ নানাভাবে পরিচিতদের মধ্যে হঠাৎ অসুবিধায় পড়া অনেককে গোপনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। অনেকের বাসায় পরিচয় গোপন রেখে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী রিক্সা চালককে রিক্সা দিয়েছেন তার ক্লাবের অর্থায়নে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মিজানকে বৃহস্পতিবার একটি রিক্সা উপাহার দেওয়া হয়

তবে তার সবচেয়ে কাজটি হচ্ছে এই দুর্যোগে মৃত মানুষদের লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করা। তিনি চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন কবরে লাশ কাফন ও দাফনের জন্য কিছু লোককে দিয়ে আলাদা আলাদা টিম তৈরি করে দিয়েছেন। কাফনের কাপড়, বাঁশ, চাটাইসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করছেন তিনি।

চরম আত্মকেন্দ্রিকতা আর আতঙ্কের এই সময়ে করোনায় মৃত্যু তো বটেই, করোনার লক্ষণ নিয়ে কারো মৃত্যু হলেও অথৈ সাগরে পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। লাশ দাফন-কাফনের জন্য কাউকেই পাওয়া যায় না। বাসায়, অ্যাম্বুলেন্সে, ভ্যান গাড়িতে দাফনের অপেক্ষায় লাশ পড়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশকে হস্তক্ষেপ করে ব্যবস্থা নিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে নুর মোহাম্মদ বাবুর ওই উদ্যোগ অনেক বড় একটি ঘটনা। তিনি শুধু মুসলিমদের লাশই কেবল দাফন-কাফন করছেন না, অন্য ধর্মাবলম্বীদের লাশ সহকারেও একইভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো সহযোগিতা লাগলে তাকে ইনবক্সে জানাতে।

গত ১৪ এপ্রিল এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, লাশের_পাশে_দাঁড়ান,  অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে চাই, একজন মানুষ যখন মারা যায়,তার অধিকার আছে সুন্দরভাবে তার শেষ যাত্রাটা যেন হয়, যে যেই ধর্মের থাকুন না কেন।

করোনাকালে এই মানবিক কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে নুর মোম্মদ বাবু অর্থসূচককে বলেন, আমি ছোটোবেলা থেকেই নানা সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। আমি কিন্তু বেশি কিছু করছি না। মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে, শুধু সেই দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করছি।

নুর মোহাম্মদ বাবুর ফেসবুক ওয়াল থেকে

মৃতদের সৎকারের বিষয়ে তিনি বলেন, এমনিতেই তিনি নিজ এলাকা আগ্রাবাদের বেপারী পাড়া এলাকার পটিয়া দিঘির কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি বিগত ১৪ বছর ধরে। একজন মানুষের দাফনের সকল কার্যক্রম খুব কাছ থেকে করেছি। আমি মনে করি, একজন মানুষের সম্মানের সঙ্গে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার অধিকার আছে। আজ কেউ একজন মারা যাচ্ছেন, কোনো একদিন তো আমিও মারা যাবো।

তিনি বলেন, এই কারোনাকালে একটি বিষয়টি তাকে সবচেয়ে মর্মাহত করেছে। সেটি হচ্ছে করোনায় কিংবা করোনা লক্ষণ নিয়ে মৃত অনেকের দাফন-কাফন বা লাশ সৎকার নিয়ে অমানবিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। মৃতদের দাফন-কাফনে কেউ এগিয়ে আসছে না। লাশ দাফনের জন্য অনেক জায়গায় খাটিয়া পর্যন্ত পাচ্ছে না মৃতের পরিবার। এই করুন, অমানবিক ঘটনাগুলো দেখে আমি কারোনাকালে মৃত দেহের ষৎকারে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ