এনসিসি ব্যাংকের ২৭ বছরের সফল পথচলা
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এনসিসি ব্যাংকের ২৭ বছরের সফল পথচলা

বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে এনসিসি ব্যাংকের নাম আজ সর্বজনবিদিত। একটি বিনিয়োগ কোম্পানি হিসাবে ১৯৮৫ সালের ২৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ছিল আমানত বৃদ্ধির মাধ্যমে বৃহৎ আকারের ঋণ প্রদান ও মুদ্রা বাজারে ভূমিকা রাখা।

দীর্ঘ আট বছর বিনিয়োগ কোম্পানি হিসাবে সাফল্যের সঙ্গে কর্মকান্ড পরিচালনার পর সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদয় অনুমোদন নিয়ে ১৯৯৩ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক নামে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবে নব পর্যায়ে যাত্রা শুরু করে। তখন অনুমোদিত মূলধন ছিল ৭৫ কোটি টাকা এবং আর পরিশোধিত মূলধন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, শাখা ছিল ১৬ টি।

কালের পরিক্রমায় বর্তমানে এনসিসি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২,০০০ কোটি আর পরিশোধিত মূলধন ৯২৭ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। দেশব্যাপী ১২১টি পূর্ণাঙ্গ শাখা এবং ৩ টি উপ-শাখায় সেবা বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংাকং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২১টি এটিএম বুথ চালু রয়েছে যা আগামী এক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করা হবে। নতুন এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন এর পাশাপাশি জমা দেওয়ার সুবিধাও থাকবে।
প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতে ধারাবাহিক সাফল্যের ধারায় এনসিসি ব্যাংক এখন ব্যাংকিং খাতে এক অবিচল আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এর বিভিন্ন আমানত ও ঋণ প্রকল্প গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সেবার পরিধি আরো বিস্তারের লক্ষ্যে নিত্য নতুন সেবাপণ্য চালুর প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
গ্রাহকদের যথাযথ সেবা প্রদান করে তাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করাই এনসিসি ব্যাংকের কর্মকান্ডের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে ব্যাংক প্রচলিত সেবা পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ঋণ ও আমানত প্রকল্প চালু করেছে যা গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং চিপ বেইজ্ড ভিসা ডেবিট কার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের নিজস্ব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুন নেওয়াজ সেলিম। তিনি বলেন, ফরেন কোর ব্যাংকিং সলিউশান সফ্টঅয়্যার স্থাপনের মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংককে একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যাংক-এ রূপান্তর করা হবে, যা গ্রাহক সেবাকে আরও এক সমৃদ্ধ করবে।
এনসিসি ব্যাংকের গৌরবজ্জল ইতিহাস বর্ণনা করে তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার সময়টি হিসাব করলে এনসিসি ব্যাংকের বয়স ৩৫ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিটি ধাপে এনসিসি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারী শিল্প, গার্মেন্ট, বিদ্যুৎ ও অবকাঠমো নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রতিটি খাতেই এনসিসি ব্যাংকের বিনিয়োগ রযেছে। এ দেশের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের জন্ম এনসিসি ব্যাংকের হাতে। সুশাসন, নৈতিকতা, স্বচ্ছতাও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংক ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা নিয়ে এনসিসি ব্যাংক এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষতেও এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, এনসিসি ব্যাংকের সাথে আমার পথচলা পাঁচ বছরের। এ পাঁচ বছরে এনসিসি ব্যাংক দ্বিগুন সম্প্রসারিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আমানত ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২০ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা হয়েছে। বর্তমান ঋণ বিতরণের পরিমান ১৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে সম্মানিত শেয়ার হোল্ডারদের জন্য রেকর্ড ১৭ শতাংশ ডিভিডেন্ট ঘোষনা করা হয়েছে। ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৮৮ পয়সা।

গত পাঁচ বছরে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি ১১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৯ সালে এ ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ১০ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার পণ্য। একই সময়ে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকার রফতানি আয় দেশে এসেছে। পাঁচ বছরে এ ব্যাংকের রফতানি আয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে এনসিসি ব্যাংক ৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে এনেছে। বিশ্বের ৩৩৩টি ব্যাংকের সঙ্গে এনসিসি ব্যাংক করেসপন্ডিং সম্পর্ক তৈরী করেছে। বিগত কয়েক বছরে ব্যাংকের প্রতিটি আর্থিক সূচক দ্বিগুণ হয়েছে কিন্তু খেলাপী ঋণ স্থিতিশীল রয়েছে। সম্পদের গুণগত মানে এনসিসি ব্যাংক অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
মোসলেহ্ উদ্দীন বলেন, ‘মুডিস’ এর রেটিং আছে, দেশে এমন বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৮টি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে মাত্র দুটি ব্যাংকের রেটিং অপরিবর্তীত ছিল। এনসিসি ব্যাংক তার মধ্যে একটি। ছয়টি ব্যাংকেরই রেটিং আগের বছরের চেয়ে খারাপ হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের রেটিংয়ে এনসিসি ব্যাংকের দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ মান এএ। আর স্বল্প মেয়াদে ঋণ মান এসটি-১। সবমিলিয়ে রেটিংয়ের দিক থেকে এনসিসি ব্যাংক তার ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে গ্রাহকদের যত ধরনের সেবা দেওয়া যায় তার সবই আমরা দিচ্ছি।

ncc bank

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের লোগো।

তিনি আগামী দিনগুলোতে এনসিসি ব্যাংক’কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত করার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের উত্তরোত্তর সাফল্যের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, স্টেকহোল্ডার, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষতঃ তিনি বলেন, এনসিসি ব্যাংকের বিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দের নিরলস প্রচেষ্টা, সুচিন্তিত পরামর্শ ও দিক নির্দেশনার ফলেই এনসিসি ব্যাংক আজ দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ