করোনার পরে যা যা পরিবর্তন হতে পার
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনার পরে যা যা পরিবর্তন হতে পারে

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে। পাবলিক প্লেসে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। জীবনের প্রতি মুহূর্তেই এখন মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব। ট্রেনে চাপতে গেলে আগেই কাটতে হবে ই-টিকিট। স্টেশনে ঢোকার পথে করতে হবে থার্মাল স্ক্রিনিং। ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করতে হবে। আর সর্বক্ষণের সঙ্গী হিসেবে সঙ্গে রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার-গ্লাভস।

দ্য ইউনিভার্সিটি অফ টলেডোর ডিপার্টমেন্ট অফ সিভিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রফেসর ডেফনে আপুল বলছেন, ডিজিটাল পরিকাঠামো আমাদের প্রত্যেকের জীবনের অঙ্গ এখন। এই মহামারি যাওয়ার পর আরও নিখুঁত হতে চলেছে এই পরিকাঠামো। কারণ মহামারি করোনার আগে পাবলিক প্লেসে এমন অনেক জিনিস ব্যবহারে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম, যেগুলো পরবর্তীতে আর থাকবে না। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চিন্তা করতে হবে এসবের বিকল্প নিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা পরবর্তী সময়ে জনসমক্ষে যে জিনিসগুলি আর ব্যবহৃত হতে দেখা যাবে না, সেগুলো দেখে নেওয়া যাক-

লিফটের বাটন: অফিস-শপিংমলসহ নানা জায়গায় আমরা লিফট ব্যবহার করি। কাজেই লিফটের বাটনে হাত দিতে হয়। এই বাটনে অন্যান্য ব্যবহারকারীও হাত দিয়ে থাকে। এই বাটন আর দেখা যাবে না। কারণ এর থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। পাশপাশি লিফট ব্যবহার করতে বাটনের জায়গায় অন্য কোনও সুবিধা থাকতে পারে। ফোনের সেন্সর কাজে লাগিয়ে, বিল্ডিং পাস, ফেস রেকগনিশন সিস্টেম বা আপনার গলার স্বর ব্যবহৃত হতে পারে।

পাবলিক বিল্ডিংয়ে দরজার হাতল: দরজার হাতল, ফ্রিজ বা আলমারির হাতল এই ভাইরাসের সংক্রমণে ভয়ংকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল বা অফিসের বিল্ডিংয়ের দরজায় হাতল আর থাকবে না। মোশন অপারেটেড দরজা বা গতি নির্ভর দরজাই আপাতত ভবিষ্যৎ। এই দরজা কনুই দিয়ে ঠেললেই খুলে যাবে। অনেকে মনে করছেন, অফিস বা হাসপাতালগুলো এরপর থেকে স্বয়ংক্রিয় দরজার ব্যবস্থা রাখতে পারে।

ক্যাশ রেজিস্টার: ডিজিটাল যুগেও কেনাকাটায় কার্ডের তুলনায় নগদ টাকা বেশি ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই। মানুষের হাত থেকে নগদ টাকা নেওয়া এই সংকটকালে বিরাট ঝুঁকির বিষয়। তাই এবার ক্যাশ বা নগদ টাকা নেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই বিষয়ে গবেষক মাইকেল সাইরাকিউজের বক্তব্য, ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড এবং টাচ-ফ্রি ইলেকট্রনিক পেমেন্টে আগ্রহী হবে সবাই।

স্টাইলাস পেন: বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যে কোনও ট্রানজাকশনের পর সচরাচর আমাদের সই করতে হয়। অনলাইন অর্ডার-ক্যুরিয়ার এলে স্বাক্ষর করতে হয়। আর সেই স্বাক্ষরের জন্য একটি বিশেষ পেন ব্যবহার করা হয়। একে স্টাইলাস পেন বলা হয়। এই পেন এ সময়ে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। গবেষক সাইরাকিউজ বলছেন, এর পর থেকে এই স্টাইলাস পেনের জায়গায় ব্যবহৃত হতে পারে ইলেকট্রনিক অথেনটিকেশন। ফেস অথবা ভয়েস রেকগনাইজ করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যারও ব্যবহৃত হতে পারে।

সোয়াইপ কার্ড মেশিন: নগদের থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে সংক্রমণের ভয় থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা যায়। কিন্তু সেই কার্ড সোয়াইপ করার মেশিন থেকেও হতে পারে সংক্রমণ। আর্কিটেক্ট কলিন হায়েনজেন্টস বলছেন, একটা কার্ড সোয়াইপ করার মেশিনে বহু মানুষ হাত দিচ্ছেন। তাই কোভিড পরবর্তী সময়ে এই মেশিন আর ব্যবহৃত হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে কন্ট্যাক্টলেস কার্ড বা ট্যাপ-এনাবেলড কার্ড রিডারের ব্যবহার বাড়বে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পদ্ধতিতে আপনার কার্ড একটি কোডিংয়ের মারফত ট্রানজেকশন সম্পন্ন করবে।

ম্যানুয়াল সুইচ: লাইট-ফ্যান অন-অফ করতে মানুষ বহু বার সুইচ বোর্ডে হাত দেন। এই সুইচ বোর্ড ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বসতি। ২০১২ সালে আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবাইলোজির এক গবেষণায় দেখা যায়, হোটেল রুমের লাইটের সুইচে সবচেয়ে বেশি ভাইরাস থাকে। আর্কিটেক্ট গাই গেইয়ারের কথায়, এই ঝুঁকি এড়াতে ম্যানুয়াল স্যুইচ বন্ধ করে দেওয়াটা জরুরি। এর বদলে ভয়েস বা গতিকে কাজে লাগিয়ে সুইচ অন-অফ করার চিন্তাভাবনা করতে হবে।

এটিএমের বাটন: ভবিষ্যতে ক্যাশলেস ট্রানজেকশনের দিকেই এগোচ্ছে বিশ্ব। কিন্তু নগদ টাকার প্রয়োজন হলে আমাদের ভরসা এটিএম। তবে এই এটিএমের বাটন সংক্রমণ ঘটাতে পারে সহজেই। কারণ প্রতিনিয়ত সেই বাটন টিপছেন বহু মানুষ।
আর্কিটেক্ট গাই গেইয়ার এই বিষয়ে বলেন, বাটন টিপে টাকা তোলার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। তার জায়গায় ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড এটিএম আসবে। অর্থাৎ আপনার গলার স্বরের মাধ্যমেই টাকা তুলতে পারবেন আপনি।

সেল্ফ সার্ভিস পেট্রল পাম্প: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেল্ফ সার্ভিস পেট্রল পাম্পের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মনে করা হচ্ছে, আবার সেই আগের মতোই ফুল সার্ভিস পেট্রল বা গ্যাস পাম্পের ব্যবস্থা ফিরে আসবে। অর্থাৎ পেট্রল পাম্পের কোনও কর্মী আপনার গাড়িতে পেট্রল বা গ্যাস ভরে দেবেন।

কফি মেশিন: অফিসে বা অনেক জায়গাতেই থাকে কফি মেশিন। সেই মেশিনের বাটন টিপলে কফি বেরিয়ে আসে। কিন্তু করোনার এই সংক্রমণকালে কফি মেশিন ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ওই কফি মেশিন বহু মানুষ ব্যবহার করে থাকেন। ফলে বাটনে হাত যায় তাদের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমরা বাড়িতে যেভাবে চা-কফি বানিয়ে থাকি, সেভাবেই আবার অফিস বা হাসপাতাল এবং নানান জায়গায় চা-কফি বানানো হবে।

বাটন টিপে সাবান-পানি: অফিস, শপিং মল, নার্সিংহোম এবং অন্যান্য বেশ কিছু জায়গায় আমরা বাথরুমে একটি বিশেষ বাটন টিপলেই সাবান-পানি পেয়ে যাই। করোনার কালবেলায় যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বহু নোংরা হাত ওই বাটন টিপে সাবান নিচ্ছে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে সেন্সর এমবেডেড হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং লিকুইড সাবান চলে আসবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থসূচক/এসএস /এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ