সীমিত ব্যাংকিং: ভিড়-ভোগান্তিতে গ্রাহক
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সীমিত ব্যাংকিং: ভিড়-ভোগান্তিতে গ্রাহক

সামনে ঈদ, খুলেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে টাকা তোলার চাপ বেড়েছে ব্যাপকহারে। তাই করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের মধ্যেও লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলোতে ভিড় করছে মানুষ। লেনদেনের সময় সীমিত হওয়ার এক সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করছে গ্রাহক। দীর্ঘ লাইনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিতে পড়ছেন গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যাংককর্মীরাও। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের। এ জন্য পরিস্থিতি বিচেনায় সবার স্বার্থে সীমিত নয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা উচিত বলছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।

আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিকবাংলা, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত টাকা তুলতে ব্যাংকে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীক খরচ, বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে নগদ টাকা তোলার প্রবণতা বেড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। আর লেনদেনের সময় কমিয়ে আনার কারণে গ্রাহকের চাপ বাড়ছে।

মতিঝিলে উত্তরা ব্যাংকের লোকাল ব্রাঞ্চের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকা কামরুন্নাহার জানান, সকাল ১১টায় এসে লাইনে দাড়িয়েছেন। করোনার ঝুঁকি নিয়ে আড়াই ঘণ্টা লাইলে দাড়িয়েও ব্যাংকের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকাররা কাজ করছেন কচ্ছপের গতিতে। ভিতর থেকে বলছে লোক কম তাই সময় বেশি লাগছে। কিন্তু আমরা ভোগান্তিতে আছি। টাকা তুলতে এসে দিন পর। তারমধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতো রয়েছে।

একই অবস্থা এনসিসি ব্যাংকের বংশাল শাখারও। সেবা পেতে সময় বেশি লাগছে গ্রাহকের এমন অভিযোগ স্বীকার করে এনসিসি ব্যাংকের বংশাল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আগে ৩০জন কর্মী কাজ করতো। এখন কাজ করছে ১০ জন। এর মধ্যে মাত্র চারজন কর্মকর্তা। গ্রাহকের উপস্থিতি বেশি থাকায় সেবা দিতে একটু সময় লাগছে। কিন্তু তারপরও ঝুঁকি নিয়েই সেবা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, সীমিত আকারে শাখার লেনদেন হয়। সপ্তাহের দুইদিন শাখা খোলা থাকছে। আজকে খোলা হয়েছে আবার ২০ তারিখ খোলা হবে। সামনে ঈদ। প্রয়োজনীয় লেনদেন সারতে গ্রাহক ভিড় করছে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊধ্বর্তন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, একটি ব্রাঞ্চে সর্বোচ্চ ৫ জন কর্মকর্তা অফিস করছেন। ব্যাংক ছোট ব্রাঞ্চে ৩ জন কর্মকর্তা দিয়ে ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। অনেক ব্যাঞ্চ আবার সপ্তাহে মাত্র ১ দিন বা দুই দিন খোলা। তাই যেসব শাখা খোলা আছে ওই শাখায় সব গ্রাহকের ভীড়। তিনি বলেন, সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা দিয়ে ঈদের সময়ে এই সার্ভিস দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ভোগান্তি দেখে খারাপ লাগছে। তাই এই সময়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত।

সূত্র মতে, ঈদ কেন্দ্রিক ব্যাংক থেকে ব্যাপক অর্থ উত্তোলন এবং আমানত রাখার পরিমান বেড়েছে। করোনার মধ্যেও কষ্ট করে হলেও রোজার মাসে ঈদ কেন্দ্রিক প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। যা অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করছে। এতে দেশে বেড়েছে অর্থের প্রবাহ। কিন্তু এই সময়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার অন্যতম নাম ব্যাংকিং খাত গ্রাহকদের হতাশ করেছে। পাচ্ছেন না স্বাভাবিক সেবা। অথচ অন্যান্য ঈদের আগে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তও ব্যাংক খোলা রাখতে হতো। একই সঙ্গে ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হয়। বর্তমানে গত প্রায় দুই মাস ধরে সীমিত পরিসের ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান থাকায় দেশের অর্থনীতিতে এক ধরণের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু রুটিন কাজ টাকা দেওয়া-নেওয়ায় ব্যস্ত আছে ব্যাংকাররা। তাও আবার সীমিত সংখ্যক কর্মচারী এবং অধিকাংশ শাখাই বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই বেড়েছে গ্রাহকদের ভোগান্তি।

টিকাটুলী মোড়ের একটি বেসরকারি অফিসের প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জানান, হাটখোলা রোডে অবস্থিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকে তার অফিসের কমকর্তা-কর্মচারীদের স্যালারি হিসাব। ঈদের সময় বেতন-বোনাস দিবেন কিন্তু তিনি জেনেছেন এই সপ্তাহেই শাখা খোলা হবে না। এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। স্যালারি হিসাব হওয়ায় অন্য ব্যাংকেও যাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ঈদের সময়ে অন্তত শাখা গুলো খোলা রাখা দরকার।

এদিকে রাজধানীর অনেক এলকায় সপ্তাহের প্রথম দিন হওয়া স্বত্ত্বেও অধিকাংশ ব্যাংকের শাখা বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে খোলা রাখা শাখায় যেতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যাংক সীমিত পরিসরে খোলা রাখা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এতে শুধু বর্তমান প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রীতাই নয়; গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। কারণ শাখা কম খোলা থাকায় সবাই নির্দিষ্ট শাখায় ভীড় করছে। এতে গ্রাহক ভোগান্তির পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের কর্মকতারা আগে থেকেই যথেষ্ট জায়গা নিয়ে বসেন। তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ আছে। যথাযথ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের আগে অর্থনীতি সচলে এবং দেশের স্বার্থে সকল ব্যাংকের ব্রাঞ্চ খুলে দেওয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১০ মে থেকে দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলছে। এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামায়ের বিরতি রয়েছে। আর লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য শাখা ও প্রধান কার্যালয় বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ