ঢাবি ছাত্রের বাবার পর ভাইয়ের মৃত্যু ‘করোনায়’

করোনায় বাবার মৃত্যুর মাত্র দুই দিনের মাথায় পরিবারের প্রতিবন্ধী বড় ছেলেও মারা গেলো করোনার উপসর্গ নিয়ে। দু’দিনের ব্যবধানে এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবার শোকে পাথর ও আতঙ্কে হতবিহ্বল হয়ে যায়।এ কারণে তারা কেউ মৃত যুবকের লাশ ছুঁয়ে দেখার সাহস পাননি। সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, না-কি কবরে দাফনের আয়োজন করবেন।আর তাতেই ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় লাশটি পড়ে থাকে ঘরে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধার ও তাকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করে।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে আমাদের

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে।

জানা গেছে, ওই পরিবারের কর্তা করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার (১৩ মে) মারা যান। মৃত্যুর পর তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়। আর তাতে জানা যায়, তিনি করোনা পজেটিভ ছিলেন।

তার দ্বিতীয় সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মার্স্টার্সের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ রিফাতের অভিযোগ, করোনা পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার জন্য তার বাবাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো যায়নি। আর বড় ভাইয়ের দেহ থেকে নমুনা নেওয়া হলেও পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

বাবা মারা যাওয়ার পর রিফাতের বড় ভাইয়ের শরীরেও করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তার একদিন না যেতেই শনিবার রাতের কোনো এক সময় মারা যায় সে। পরিবারের সদস্যদের ধারণা শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়। আজ শনিবার ভোরে বাড়ির লোকজন তাঁর নিথর শরীর বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। কিন্তু দু’দিনের ব্যবধানে করোনায় মৃতুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা এতটাই ভয় পেয়ে যায় যে তারা তার শরীর ছুঁয়ে দেখারও সাহস পায়নি। এ কারণে প্রচণ্ড গরমে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় ঘরের মধ্যেই পড়ে থাকে লাশ।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ঘটনাটি জানার পর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারকে জানালে তিনি সরানোর ব্যবস্থা করেন।

পুলিশ কমিশনার ওই লাশ সরিয়ে দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।