মহামারীকালে নিউইয়র্কে দূরশিখন

মহামারীর এই সংকটকালে সকলকে নিরাপদ রেখে নিউইয়র্কের (ন্যু ইয়র্ক) স্কুলের নিত্যদিনের কার্যকলাপ যথানিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। জে এইচ এস ২১৬  কুইন্স নিউইয়র্ক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির একজন ছাত্র এই আমি দূরশিখনের দিনগুলোতে কী করি তা জানাবো এই লেখাতে।

সকাল ৮.৫৫ মিনিটে ইংরেজি দিয়ে আমাদের পাঠ শুরু হয়। শিক্ষক আমাদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে পাঠের সূচনা করেন। এরপর স্লাইড, ব্যখ্যা ও সময়কালসহ পাঠটি প্রকাশিত হয়। সাধারণ ক্লাসে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকলেও দূরশিখন পদ্ধতিতে সেটি নেই। এখন আমরা রূপকথা নিয়ে আলোচনা করছি। একটি নির্দিষ্ট ধারা মেনে উত্তরদানের মধ্য দিয়ে কাজের শেষ হবে। এক্ষেত্রে আমরা RACER অনুসরণ করি। বছরজুড়ে সব বিষয়ের জন্যই এটা প্রযোজ্য। ক্লাসমিটিং-এর জন্য আমরা Google Meets সফটওয়্যার ব্যবহার করি, যেটা আসলে অতি পরিচিত কলিং সার্ভিস Google Hangouts-এর একটি সংস্করণ। এই সব মিটিং-এ শিক্ষকেরা আমাদের কোন্ স্তরে থাকা উচিত তা জানান এবং যে দক্ষতাসমূহ এখন পর্যন্ত আমাদের অনার্জিত সেগুলো অর্জন করতে শেখান।

সকাল ১০.২৮ থেকে দুপুর ১.১৬ পর্যন্ত নানা বিষয়ে ক্লাস হয়। প্রযুক্তিবিদ্যা ক্লাসে Spreadsheets সম্পর্কে পড়ছি. গণিত ক্লাসে আমাদের ত্রিভুজ ও সমান্তরাল বাহু নিয়ে পড়ানো হয়। ওটা শেষ হলে বিজ্ঞান ক্লাসে তাপের বদল সম্পর্কে পড়ি। শেষে সমাজবিজ্ঞান ক্লাসে প্রাচীন গ্রিস (বিশেষত: এথেন্স ও স্পার্টা) সম্পর্কে পড়ছি।

শেষ করতে গিয়ে বলা যায়, দূরশিখন আকস্মিক হলেও অবশ্যম্ভাবী। এটা শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী–সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটা সাধারণ শিখনের মতো হয়তো নয়। তবে সত্যি বলতে কি, প্রতিদিন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেয়ে সকলের নিরাপদ থাকাটা অনেক জরুরী।