ধানের বাম্পার ফলনেও হতাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকরা
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্র্রাম

ধানের বাম্পার ফলনেও হতাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকরা

Boro Dan

ধান মাড়াই ও বাছাইয়ে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণিরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি হলেও উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে দাম কম থাকায় হতাশ তারা।

উপজেলার বাক-লঙ্গণ হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। বৃষ্টির আশংকায় বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার পাশাপাশি ধান মাড়াই ও বাছাই করে গোলাভর্তি করার জন্য কৃষাণ-কৃষাণিরা এখন কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক স্বল্পতায় ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা দুভোর্গে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা আশানুরূপ ফসল ঘরে তুলতে পারছে। তবে ধানের দাম কম ও ধান কাটার শ্রমিক সংকটসহ নানা কারণে আবাদি জমি থেকে উৎপাদন খরচ উঠে আসলেও এবার ব্রি-২৮ ধান আবাদ করে কৃষকরা তেমন লাভবান হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রায় ১৬ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে।

কৃষি অফিসের হিসাব মতে , উন্নত জাতের হাইব্রিড ধান ৪’শ হেক্টর জমিতে, উফশী ১৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে ও স্থানীয় জাতের ধান ৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়।

কৃষকরা জানায়, এবার ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন হয়নি। চলতি বছরে ডিজেল, কীটনাশকসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেশি থাকায় গত বছরের চেয়ে উৎপাদন খরচও বেশি পড়েছে। তাছাড়া ধান কাটার শ্রমিক স্বল্পতায় ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে তাদেরকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদন করতে প্রায় ৮’শ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৬’শ থেকে ৬৫০ টাকা।

এদিকে মহাজন আর শ্রমিকের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের । এর ফলে সাধারণ কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী তোফায়েল হোসেন জানান, কৃষকরা কৃষি বিভাগের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করার পাশাপাশি অনুকুল আবহাওয়া, স্বাভাবিক সেচ ব্যবস্থা, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সুষম ব্যবহারের কারণে এবার বোরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ