৯৯% করোনা ভাইরাস মারা যায় প্লাজমা থেরাপিতে: গবেষণা
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৯৯% করোনা ভাইরাস মারা যায় প্লাজমা থেরাপিতে: গবেষণা

মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী কোন টিকা বা ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় অনেক দেশে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্লাড প্লাজমা থেরাপি। যদিও এটি এখনও করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় শতভাগ কার্যকরী কোনো পদ্ধতি নয়। তবে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি সুখবর দিয়েছেন। তারা বলেছেন, করোনাজয়ীদের প্লাজমায় আক্রান্তদের দেহে থাকা ৯৯ শতাংশ ভাইরাস মারা যায়।

আজ শুক্রবার (১৫ মে) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইভান হাং ফ্যান-এনগাই ওই গবেষণা দলটির নেতৃত্ব দেন। অধ্যাপক ইভান জানান, ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে করোনাজয়ীদের রক্তে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সে কারণেই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হলে তার শরীরের ৯৯ শতাংশ ভাইরাসই মারা যায়।

রক্তের তরল, হালকা হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। তিন ধরনের কণিকা ছাড়া রক্তের বাকি অংশই প্লাজমা বা রক্তরস। মেরুদণ্ডী প্রাণির শরীরে রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ রক্তরস থাকে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি করোনা ভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডিই অন্য রোগীদের সুস্থ করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উহানেও প্লাজমা থেরাপিতে সাফল্য মিলেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ ব্যক্তিকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পর আশাব্যাঞ্জক ফল মেলে। এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই রোগীরা প্রায় সুস্থ হয়ে ওঠেন।

অধ্যাপক ইভান জানান, গত সপ্তাহে হংকংয়ে এক সংকটাপন্ন করোনা আক্রান্তকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। এরপরই দ্রুত তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে বের করে আনা হয়।

ডা. লি জানান, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের রক্ত প্লাজমা থেরাপির জন্য বেশি উপযোগী। এক্ষেত্রে তাদের ওজন হতে হবে কমপক্ষে ৬০ কেজি এবং কোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকা চলবে না।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ