কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বেড়েছে মুরগির
শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বেড়েছে মুরগির

মহামারি করোনা ভাইরাস প্রকোপের মধ্যে দফায় দফায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর এখন কমছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম। তবে বেড়েছে বয়লার মুরগি ও আদার দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে দুই দফায় কমেছে চালের দাম। এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগের দামে ফিরে গেছে বেশিরভাগ চালের দাম। একদিকে চাহিদা কম অন্যদিকে বাজারে নতুন ধানের চাল আসায় এই দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চালের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১০ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় চালের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে গত দুই দিনে কেজিতে চালের দাম কমেছে তিন টাকা। তবে কিছু কিছু পুরনো চাল এখনো এক সপ্তাহ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার শুরুতেই চাল বিক্রি বেড়ে যায়, এতে দামও বাড়ে। এরপর বিক্রি কমলে মাঝে দাম কিছুটা কমে। তবে রোজার আগে আবার চালের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যায়। এখন বাজারে নতুন চাল আসছে, কিন্তু বিক্রি অনেক কমে গেছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, যা দুই দিন আগে ছিল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা এবং রোজা শুরু হওয়ার আগে ছিল ৬২ থেকে ৬৮ টাকা কেজি। করোনার শুরুতে ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা এবং করোনার আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। অর্থাৎ রোজায় দুই দফায় কেজিতে ১০ টাকা কমে চিকন চাল এখন করোনার আগের দামে ফিরে গেছে। দাম কমার তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যা দুই দিন আগে ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা এং রোজার আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা। আর করোনার আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। অর্থাৎ দুই দফায় দাম কমে মাঝারি মানের চালও করোনার আগের দামে ফিরে গেছে।

তবে নতুন করে মোটা চালের দাম কমেনি। গত সপ্তাহের মতো মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, যা রোজার আগে ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠে ছিল। আর করোনার আগে ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে।

এদিকে গত একসপ্তাহে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চিকন চালের পাশাপাশি দাম কমেছে মাঝারি ও মোটা চালের। টিসিবির হিসাবে মাঝারি মানের চাল পাইজাম ও লতার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ৫ শতাংশ। বর্তমানে পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর মোটা চালের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে ৩৮ থেকে ৪৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে দাম কমা প্রতিটি পণ্যের দাম করোনার প্রকোপ ও রোজার শুরুতে অস্বাভাবিক বাড়ে। করোনার প্রকোপে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া আমদানি করা আদার দাম গত এক সপ্তাহে সব থেকে বেশি কমেছে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে আমদানি করা আদার দাম কমেছে ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বর্তমানে এই আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৬০ টাকা। অথচ করোনার প্রকোপ শুরু হলে এক পর্যায়ে পণ্যটির দাম ৩৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত এক সপ্তাহে বড়, মাঝারি ও ছোট দানা সব ধরনের মসুর ডালের দাম কমেছে। বড় দানার মসুর ডালের দাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি দানার মসুর ডাল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ১০০ থেকে ১১০ টাকা হয়েছে। আর ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, এ পণ্যটির দাম কমেছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

টিসিবির তথ্যে, গত এক সপ্তাহে দেশি রসুনের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি রসুনের দাম কমে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর আমদানি করা রসুনের দাম ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে।

অস্বাভাবিক বাড়া জিরার দামও খুচরা বাজারে কিছুটা কমেছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে জিরার দাম কমেছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এক লাফে ৬০০ টাকা কেজিতে উঠে যাওয়া জিরার দাম এখন কিছুটা কমে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা হয়েছে।

রোজার অপরিহার্য পণ্য হিসেবে পরিচিত ছোলার দাম ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়েছে। ছোলার পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে দেশি ও আমদানি উভয় ধরনের পেঁয়াজের দাম কমেছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা হয়েছে। আর আমদানি পেঁয়াজের দাম ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। দাম কমার এ তালিকায় থাকা লুজ সয়াবিন তেলের দাম এক সপ্তাহে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে কেজি ৮৮ থেকে ৯২ টাকা হয়েছে। লুজ পাম ওয়েল ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। আর সুপার পাম ওয়েলের দাম ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে গত এক সপ্তাহে সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। টিসিবির হিসাবে, ব্রয়লার মুরগির দাম ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা শুকনা মরিচের দাম ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া দেশি আদার দাম ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ