আরও ৪০ বছর আমাদের থাকবে সৌদি শ্রমবাজার
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

আরও ৪০ বছর আমাদের থাকবে সৌদি শ্রমবাজার

workers

সৌদিতে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিক- ফাইল ছবি

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আর ৪০ বছর খোলা থাকতে পারে পেট্রো-ডলারের দেশ সৌদি আরবের শ্রমবাজার। এ সময়ের মধ্যে শ্রমশক্তিতে আত্মনির্ভর হতে পারবে না তেল সমৃদ্ধ এ দেশটি। তাই অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়েই খোলা রাখতে হবে তাদের শ্রমবাজার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) একজন সাবেক প্রতিনিধি বলেছেন, আগামি ৪০ বছর বা তারও বেশি সময় বিভিন্ন খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের চাহিদা থাকবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা জরিপের বরাত দিয়ে শুক্রবার আরব নিউজে বলা হয়, এখনো দেশটিতে ২৫ লাখ লোক বেকার রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এসব শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের পুঁথিগত ও তাত্ত্বিক জ্ঞান ছাড়া ব্যবহারিক বা কর্মমুখী জ্ঞান নেই। ফলে দেশটিতে বেকারত্বের হার দ্রুতগতিতে কমছে না।

আইএলওর ওই কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ দাহলান জানান, বেকারদের একটি বড় অংশ রয়েছে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব একটা নেই বা তাদেরকে নিরক্ষর বললেই চলে। তাছাড়া দেশে যে পরিমাণ কর্মক্ষম লোকবল প্রয়োজন তাও এই ২৫ লাখ বেকার দিয়ে পূরণ হবে না। আরও লোকবল দরকার। তাই সৌদি নাগরিকদের দিয়ে বিদেশি কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করতে ৪০ বছর বা তার বেশি সময় লেগে যাবে। আর ততদিন পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীরা সেখানে অবস্থান করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশটিতে যদিও বেকারত্বের হার শ্লথগতিতে কমছে। তারপরেও আগামি ৪০ বছরের মধ্যে দেশটির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে নারী শিক্ষাসহ কর্মমুখী শিক্ষার ওপরে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি বিশ্বাস করি”। পাশাপাশি শুল্ক ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

দাহলান আরও জানান, সাধারণের সুবিধার্থে দেশটিতে চলতি বছরে এইসব শ্রমিকদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকার। কিন্তু এতে কি জীবনযাত্রা সহজতর হচ্ছে প্রশ্ন করেন তিনি? তিনি মনে করেন, অবৈধ বিদেশী কর্মীরা দেশটিতে থাকার পরও লোকবল সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বিদেশী এসব কর্মীদের বৈধতা দেওয়া ও স্বাগত জানানো উচিত বলে জানান তিনি।

সৌদি প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে ২৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে অধিকাংশই শ্রমিক। আর এসব শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এখানকার কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সৌদিতে এসেছেন।

প্রসঙ্গত সেই ২০০৮ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারটিতে বিগত কয়েক বছরে কেবল শ্রমিক রপ্তানি বন্ধই ছিলোনা, ২০১১ সালে সৌদি সরকারের একটি সিদ্ধান্তের পর সে দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিপাকে পড়েন। দেশটি তার দেশের বেকারত্বের হার কমাতে ওই সময় যে কোনো কারখানায় ২০ শতাংশ সৌদি নাগরিক থাকা বাধ্যতামূলক করে দেয়।

আর যেসব প্রতিষ্ঠান এ শর্ত পূরণ করতে পারেনি সেগুলো ‘রেড ক্যাটাগরিতে’ পড়ে যায় এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের আকামা ট্রান্সফার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি শ্রমিকরা বেশির ভাগই রেড ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় আকামা নবায়ন করতে পারছিল না। আকামা পরিবর্তনের সুযোগ না পেয়ে গত দুই বছরে সৌদিতে কর্মরত প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে যায়।

দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে, দেশটির সরকার সকল অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার জন্য গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমার সময় বেধে দেয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে বৈধ না হতে পারা প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি সরকার।

উল্লেখ্য, সৌদিতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে। শ্রমশক্তিতে আত্মনির্ভর করতে দেশটির সরকার যদি এই সুযোগ প্রদান করে তবে দেশটিতে বাংলাদেশি এসব শ্রমিকদের আরও ৪০ বছর চাহিদা থাকবে।

এস রহমান/

এই বিভাগের আরো সংবাদ