করোনায় পুঁজিবাজার বন্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

করোনায় পুঁজিবাজার বন্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় চলমান ছুটিতে গত ২৯ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের পুঁজিবাজার। এর মধ্যে কয়েক দফা সাধারণ ছুটি বাড়ানো হলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুঁজিবাজার বন্ধের মেয়াদও বেড়েছে। করোনার কারণে বাংলাদেশসহ মাত্র ৩টি দেশের পুঁজিবাজার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে ওই দুটি বাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-শ্রীলংকার কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ ও জর্ডানের আম্মান স্টক এক্সচেঞ্জ।

এভাবে দিনের পর দিন পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের বাজার নিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এদের কেউ কেউ এই বাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব উদ্বেগ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা হচ্ছে আঙ্গুলে গোনা গুটি কয়েক বাজারের অন্যতম, যেগুলো করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে অর্থনীতির পাশাপাশি পুঁজিবাজারও বন্ধ রেখেছে। এটি পুঁজিবাজারের উপর বড় আঘাত। এর মধ্যে শ্রীলংকার বাজার খুলে দেওয়া হলেও বাংলাদেশের বাজার খোলার কোনো আভাস পর্যন্ত নাই। এটি বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে এই বাজারের প্রতি নিরুৎসাহী করে তুলতে পারে।

দুবাইভিত্তিক বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেলিমার এর হেড অব স্ট্রাটেজিক ইক্যুইটি হাসনাইন বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বন্ধ রাখার বিষয়টি বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে তেঁতো স্বাদ দিয়েছে। আগামীতে এদের কেউ কেউ এই বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিতে পারে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলংকার বাজার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

হংকংভিত্তিক এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল লিমিটেডের ফান্ড ম্যানেজার বলেন, বেশ কিছু বিদেশী বিনিয়োগকারী দীর্ঘ সময় লেনদেন বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করেন এমন দেশী ব্রোকারহাউজগুলোও এভাবে লেনদেন বন্ধ রাখার বিষয়টিকে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ একটি ব্রোকারহাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, বিশ্ব বাজারের ধারার বাইরে থাকা কোনো ভালো উদাহরণ নয়। এভাবে বন্ধ রাখার কারণে বিদেশী, এমকি দেশী বিনিয়োগকারীরাও আস্থা হারাতে পারেন। এছাড়া ফ্লোর প্রাইসের বিষয়টিও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ চাপিয়ে দেওয়া মূল্য কখনো টেকসই হয় না। তাই ফ্লোর প্রাইস থাকলে নতুন বিনিয়োগকারীরা মোটেও বাজারের প্রতি আগ্রহী হবে না। তাতে বাজারে গতি আসবে না। তাই বাজার খোলার পর একটি নীতিমালা করে ধীরে ধীরে ফ্লোরপ্রাইস তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ