লকডাউনে খিটখিটে শিশুরা, বাড়ছে দুশ্চিন্তা
মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লকডাউনে খিটখিটে শিশুরা, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

যান্ত্রিক জীবনে শহুরের শিশুরা বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুব কমই পায়। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণেও তাদের নানা ছাড় দিতে হয়। এরপর সপ্তাহান্তে যেটুকু বেড়াতে যাওয়া, লকডাউনে বন্ধ সেসবও। স্কুল বন্ধ, অনলাইনের বিরক্তিকর ক্লাস, ক্লাসের প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ –বিষিয়ে তুলছে তাদের মন। লকডাউনের একঘেয়ে জীবনে বিরক্ত শিশুদের মধ্যে বেড়ে গেছে অবাধ্যতা। ফলে সময়ে-অসময়ে বাবা-মায়ের বকুনি খেতে হচ্ছে। এসব কিছুর সামগ্রিক প্রভাব গিয়ে পড়ছে শিশুদের মনোজগতে। তারা হয়ে পড়ছে খিটখিটে। দীর্ঘমেয়াদী অবসাদ কেড়ে নিচ্ছে তাদের দুরন্ত ও সাবলীল শৈশব।

লকডাউনের গৃহবন্দীত্বে বড়রাই বিরক্ত। আর চার দেয়ালের মধ্যে থাকা শিশুদের মনের ভেতরে কী হচ্ছে, তার খবর আমরা খুব একটা রাখি না। সাদা চোখে হাসিখুশি দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। বদ্ধজীবন শিশুদের খিটখিটে করে তুলছে। তারা হয়ে উঠছে আরও অবাধ্য। এমনিতেই মনের অসুখের জন্য ডাক্তার দেখানো নিয়ে একটা দ্বিধা কাজ করে। তার উপর দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন। কোনও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।  চিকিৎসকদের মতে, বন্দিজীবনে সবচেয়ে বেশি বকুনির মুখে পড়তে হচ্ছে শিশুদের। যা তাদের মনে গভীর চাপ তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকায় শিশুরা খিটখিটে হয়ে উঠছে। অনেকে আবার খুব চুপচাপ আচরণ করছে। যা তাদেরকে করতে নিষেধ করা হচ্ছে সেটাই করছে বেশি করে। এই জাতীয় লক্ষণ খুবই উদ্বেগের।

যা করা উচিত: লকডাউনের কারণে শিশুদের জীবনচর্যা বদলে যাওয়ায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময় অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশা, বেশি সময় কাটানো। বন্ধু-আত্মীয়দের সঙ্গে ভিডিও কলে বা ফোনে কথা বলানো। বাড়ির মধ্যে বাগানে, ছাদে, প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের নিয়ে সময় কাটানো। শুধু তাই নয়, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তারা যেন নিজেদেরকে অগুরুত্বপূর্ণ না ভাবে, সেভাবেই তাদেরকে মূল্যায়ন করা অভিভাবকদের কর্তব্য। সর্বোপরি তাদের শরীরের যত্নের পাশাপাশি সংবেদনশীলতার সাথে মনেরও  যথাযথ যত্ন নিতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের শিশুদেরকে সুস্থ রাখতে পারবো।

সূত্র: এই সময়

অর্থসূচক/এসএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ